মাঘে বর্ষার আমেজ, কনকনে শীত আলুসহ কিছু ফসলের ক্ষতির শংকা

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ মাঘের শীত, তারপর ঝড়ো বাতাসের সাথে কখনো মুষলধারে আবার কখনও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। যশোরে এমনি অবস্থায় কেটেছে গতকাল শুক্রবার পুরো দিনটি। দিনব্যাপী এ রকম বৃষ্টির কারণে বোঝার উপায় ছিল না এটা আসলে শীত নাকি বর্ষাকাল। এমন টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে ভোগান্তি দেখা দেয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকবে। তবে এ এসময়ে বাড়বে শীতের প্রকোপ।


যশোর বিমান বন্দর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে যশোরে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তবে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় এর আগেই শুরু হয় বলে জানা যায়। আবহাওয়া অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৭ ঘন্টায় মোট ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। দুপুরের দিকে বৃষ্টির সাথে বাতাসের গতি ছিলো অনেকটা বেশি। যা মৃদু ঝড়ো বাতাসে রুপ নেয়। মাঝে মধ্যে বিরতি দিয়ে শনিবার দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হবে বলে আবহাওয়া অফিসের ওই কর্মকর্তা জানান।


এ দিকে মাঘের এ বৃষ্টিকে অনেকেই আশীর্বাদ হিসেবে দেখলেও কৃষি বিভাগের মতে ভারী বৃষ্টিপাত বলবৎ থাকলে তা রবিশস্য ও আলুর জন্য কাল হয়ে দেখা দিতে পারে। তবে বৃষ্টি বিলম্বিত হলে তা অনেকটাই কৃষকের জন্য ভালো হয়ে যেতে পারে।  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দীপঙ্কর দাস বলেন, আপাতত যতটুকু বৃষ্টি হয়েছে (শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পযন্ত) তাতে আমরা ক্ষতির হিসেবের দিক যাচ্ছি না। তবে এটি যদি রাতে বেড়ে তা শনিবার দিনভর হয় তাহলে অবশ্যই কিছু কিছু ফসলের ক্ষতির শঙ্কা করা যায়। তিনি বলেন, আমাদের জেলায় এই মুহূর্তে মাঠে যে সব ফসল রয়েছে তার মধ্যে আলু, তেল জাতীয় ফসল ও পেঁয়াজ এ বৃষ্টির পানিতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জেলায় ১৭৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও ইতোমধ্যে ৭৫০ হেক্টর জমির আলু হারভেস্ট হয়েছে। বাকি যেগুলো এখনো মাঠে আছে সেগুলো বেশি বৃষ্টি হলে ক্ষতির মুখে পড়বে। এর বাইরে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা ও ৩২ শ হেক্টর জমিতে মসুর আবাদ করা হয়। ইতোমধ্যে ৮ শ হেক্টর জমির সরিষা ঘরে তোলা হয়েছে। তবে ৩২শ হেক্টর জমির মুসরীসহ বাকি সরিষা এখনও জমিতে রয়েছে। বৃষ্টি বিলম্বিত হলে এসব ফসল নিশ্চিত ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তিনি জানান। কৃষিবিদ দীপঙ্কর দাস বলেন, বৃষ্টি কিছু ফসলের জন্য ক্ষতির দিক হলেও অন্যান্য ফসল যেমন বোরো আবাদ, পাট আবাদ ও সবজি আবাদের জন্য খুবই উপকারী হয়ে দেখা দেবে। কারণ এখন ক্ষেতে যেসব সবজি রয়েছে তা অনেকটা পরিপক্ক। ফলে তেমন ক্ষতি করতে পারবে না বলে তিনি মত দেন। এদিকে টানা বৃষ্টিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বিপাকে পড়েন দিনমজুর রিকশাচালক, অটোচালক, ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষরা। মহাসড়কেও স্বাভাবিকের চেয়ে যানবাহন চলতে দেখা যায়। বাড়ছে শীতও। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুর রহমান বলেন, বৃষ্টির মধ্যেই অটো নিয়ে বের হয়েছিলাম। যাত্রী নাই কিন্তু রাস্তাায় যানবাহন ও মানুষ দুটোই কম তাই চলে যাচ্ছি।

Lab Scan