মন্ত্রীর নির্দেশ কি পালন হবে যশোর-খুলনা মহামড়কে ?

0

আকরামুজ্জামান ॥ যশের-খুলনা মহাসড়কের দুরাবস্থা, খানাখন্দ ভরা রাস্তা সংস্কার নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জনসভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক মাসের মধ্যে সড়কটি পুনঃনির্মাণের জন্য সময় বেঁধে দেন। এসময় তিনি এক মাসের সময় দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সওজ কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক করে দেন। তবে মন্ত্রীর আল্টিমেটামের আর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকলেও এখনো পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কোনো অগ্রতি নেই।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশটুকু পুনঃনির্মানে কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকার প্রয়োজন। যেকারণে আপাতত রেগুলার রিপিয়ারিং করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ । তবে পরিবহন সংশ্লিষ্ট মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দাবি জোড়াতালির এ মেরামত নয়, এটি আবার নির্মাণ করতে হবে। নইলে সামনে বর্ষা মৌসুমে এসড়কটি পুরোপুরিই অচল হয়ে পড়বে।
২০১৮ সালের মে মাসে ৩২১ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর থেকে খুলনা পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার এ সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। দরপত্রের ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী বছর ২০২০ সালের জুন মাসের উন্নয়ন কাজের শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও এক বছর বাড়ানো হয়। এ সময়ে নির্মাণ কাজের জন্য আরও প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হয় সড়কটি পুনঃনির্মাণে।
তবে নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই সড়কের যশোরাংশের আট কিলোমিটার অংশ ফুলে-ফেঁপে ওঠে। যা নিয়ে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করলেও তা আর বেশিদিন টেকেনি। এমন এক মুহূর্তেই গত ২৩ নভেমম্বর যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ন এ সড়ক পুনঃনির্মানে এক মাসের সময় বেঁধে আল্টিমেটাম দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তবে আশ্চর্যের বিষয় মন্ত্রীর এ কড়া নির্দেশনার পরও এখনো পুনঃনির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
গতকাল সোমবার দুপুরে এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কটির পুনঃনির্মাণের কাজ গত বছরের জুন মাসে শেষ হয়েছে। এখন সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশটুকু আপাতত রেগুলার রিপিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ঠিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাই এটি রিপিয়ারিং করবেন। এজন্য তাদেরকে নির্দেশনাও দেয়াও হয়েছে তিনি জানান।
রেগুলার রিপিয়ারিং করলে সড়কটি কতদিন টিকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি পুনঃটেন্ডারের মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করতে হলে আরও ৬০ কোটি টাকার দরকার। সেই বিষয় নিয়ে আমি বর্তমান ঢাকায় এসেছি। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত টাকা বরাদ্দ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিাকদাররা রেগুলার রিপিয়ারিং এর কাজ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান। তারা আগামী দেড়বছর পর্যন্ত মেরামত করবে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে রিপিয়ারিংয়ের কাজ চলমান আছে। সড়কের যেসব অংশে খানাখন্দ বা দেবে গেছে সেগুলো রিপিয়ারিং করার হচ্ছে। তবে নতুন কোনো বরাদ্দ না থাকায় আপাতত এভাবেই রিপিয়ারিং অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দাবি ঠিকাদাররা ইট-বালি, সুরকী দিয়ে জোড়াতালির যে মেরামত করছে তার নুন্যতম কোনো মূল্য নেই। সামনে বর্ষা আসলেই সড়কের এসব ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ফের আগের অবস্থায় চলে যাবে। এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, যশোর খুলনা মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত নয়, পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর আল্টিমেটামের পরও সড়কটি যদি পুনর্নির্মাণ না হয়, তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর হতে পারেনা। বর্তমান জোড়াতালি দিয়ে রিপিয়ারিং এর কাজ করলে এটি বর্ষা আসলে ১৫ দিনও চলবে না বলে তিনি দাবি করেন। এজন্য তিনি বর্ষার আগেই সড়কটি পুন:নির্মাণের জোর দাবি জানান।
একই দাবি করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু। তিনি বলেন, এই সড়কের অভয়নগর ও যশোর সদরের সীমান্তবর্তী প্রেমবাগ থেকে শুরু করে বেঙ্গল রেলগেট পর্যন্ত অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আলীপুর মজুমদার মিলের সামনে, চেঙ্গুটিয়া বাজার, রাজ টেক্সটাইল মিলের সামনে, ভাঙাগেট রেলক্রসিং, নওয়াপাড়া বেতারের সামনের সড়ক অংশে খুবই বিপদজনক পর্যায়ে। এসব অংশে সড়ক পুনর্নির্মাণ না করে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করলে কোনো লাভ হবেনা বলে তিনি জানান।

Lab Scan