মনিরামপুরে দুই যুবকের বাড়িতে হামলার অভিযোগ মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে

0

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর (যশোর) ॥ মনিরামপুরে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় দুই যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরসহ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসময় সন্ত্রাসীদের মারধরে আহত হন নারীসহ ৫ জন। এ ঘটনা ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিয়াড়া গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে হামলার সময় বার বার খবর দেওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ সময়মত ঘটনাস্থলে আসেনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কাউকে আটক করেনি।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার কাজিয়াড়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন এলাকায় গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করে আসছে একটি চক্র। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ কয়েকবার আটক হয় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হোতা আসাদুজ্জামান।
এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করেন কাজিয়াড়া গ্রামের কামাল মোল্লার ছেলে তৌহিদুল ইসলাম ও মশিয়ার রহমানের ছেলে সুমন হোসেন। এ নিয়ে গত ২৫ জুন সকালে সুমনের সাথে মাদক ব্যবসায়ী আসাদের ঝগড়া হয়। অভিযোগ রয়েছে এ ঝগড়াকে কেন্দ্র করে বিকেলে আসাদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সুমনের ওপর হামলা চালিয়ে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে সুমনকে তারা ফেলে রেখে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী সুমনকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করে। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম দুই পক্ষকে নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে এলাকায় সালিশ বৈঠকের ঘোষণা দেন। ফলে আসাদ বিভিন্ন এলাকার মাদকসেবীসহ সন্ত্রাসীদের জড়ো করে ওই সভায় যোগদানের জন্য।
ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম জানান, বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গত মঙ্গলবারের সভা স্থগিত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাত সাতটার দিকে মাদক বিক্রেতা আসাদের নেতৃত্বে মিন্টু, রমজানসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন যুবক লাঠিসোটা লোহার রড নিয়ে প্রথমে হামলা চালায় তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে। এ সময় সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তৌহিদের ঘরের কয়েকটি জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে আসবাপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করে। অবশ্য এ সময় তৌহিদুল ইসলাম বাড়িতে ছিলেন না। এ সময় তাদের বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তৌহিদুলের বাড়িতে বেড়াতে আসা শ্বশুর খবির মোল্লাকে মারধর করে। এছাড়া মারধর করা হয় তৌহিদুলের স্ত্রী খাদিজা বেগম, ছেলে মাসুম বিল্লাহ ও জেসমিন নামে অপর এক গৃহবধূকে। তৌহিদুলের স্ত্রী ও শ্বশুর অভিযোগ করেন সন্ত্রাসীরা ঘরের আলমারিতে থাকা দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা একই গ্রামে অবস্থিত সুমনের বাড়িতে হামলা করে। সুমনকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা সুমনের দাদিকে ঘর থেকে বের কের দেয়। এক পর্যায়ে চলে যাবার সময় তারা ঘরের চালের কয়েকটি টিন ভাঙচুর করে।
তৌহিদুল ইসলাম ও সুমন হোসেন জানান, তাদের বাড়িতে হামলার সময় সহযোগিতা চেয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে বার বার মোবাইল খোনে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক এগিয়ে আসেনি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে রাত আটটার দিকে ফাঁড়ি থেকে পুলিশ সদস্যরা তাদের বাড়িতে আসেন। কিন্তু তার আগেই সন্ত্রসীরা চলে যায়।
তবে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুজ্জামান জানান, তৌহিদ এবং সুমন নিজেরা পরিকল্পিতভাবে ঘর ভাঙচুর করে তাকে ফাঁসানোর চক্রান্ত করছে। মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুজ্জামান উল্টো অভিযোগ করেন, মাদকের মূল হোতা তৌহিদ , সুমন, সাগর ও আজিজ। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তৌহিদ এবং সুমন পরিকল্পিতভাবে ডিবি পুলিশ দিয়ে তাকে হয়রানি করেন। দূর্বাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মাযহারুল আনোয়ার জানান, মূলত মাদক কারবার নিয়ে আসাদ এবং তৌহিদুলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এমরান জানান, হামলার খবর পাবার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম বুধবার বিকেলে আসাদুজ্জামান,সিরাজুল ইসলাম, ইমান আলী, আরিফ হোসেন, ওয়াদুদ হোসেন সহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬০ ব্যক্তির নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

Lab Scan