মনিরামপুরে চাল পাচার কেলেংকারির গডফাদাররা রক্ষা পেয়েই গেলেন!

এস.এম.মজনুর রহমান,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল পাচারের ঘটনায় জড়িত নেপথ্যের গডফাদাররা নিজেদেরকে রক্ষা করেই ফেলেছেন? এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। অন্যদিকে আটক চাতাল মালিক মামুন এবং ট্রাক চালক ফরিদ রিমান্ড শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে চাল পাচারের ঘটনায় তার সাথে জড়িত রয়েছেন চাল-গম কেনাবেচার সিন্ডিকেট সদস্য শহিদুল ইসলাম, জগদিশ দাস এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসি শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, মনিরামপুর পৌরশহরের বাঁধাঘাটা এলাকার ভাই ভাই রাইস মিল এন্ড চাতালের মালিক আটক আব্দুল্লাহ আল মামুন রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে জানিয়েছে মামুন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাল-গম বেচাকেনা সিন্ডিকেট নেতা শহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগী জগদিশ দাসের (জুড়ানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী) কাছ থেকে চাল কিনে আসছিলেন। মামুন জানায় গতমাসে শহিদুল এবং জগদিশ দাসের কাছ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ৩৭ মে:টন সরকারি চাল কেনেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি ধাপে অধিকাংশ চাল সরবরাহ করে। বাকী একট্রাক চাল ৪ এপ্রিল সরবরাহ করে। আটক ট্রাক চালক ফরিদ হাওলাদার জানায়, তিনি ভাড়ায় ৪ এপ্রিল খুলনার মহেশ্বরপাশা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে এক ট্রাক চাল নিয়ে প্রথমে মনিরামপুর সরকারি খাদ্য গুদামে আসেন। সেখানে আসলে এক কর্মকর্তা তার হাতে একটি স্লিপ দিয়ে ভাই ভাই রাইস মিলের গোডাউনে নিয়ে যেতে বলেন। ফলে সে চালভর্তি ট্রাক চালিয়ে ওই মিলে নিয়ে যান।
গত ৪ এপ্রিল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ ভাইভাই রাইস মিল এন্ড চাতালে অভিযান চালায়। পরে উপজেলা নিবাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফীর উপস্থিতিতে সরকারি কাবিখার ৫৫৫ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয় চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাক চালক ফরিদ হাওলাদারকে। অবশ্য এসময় সেখানে চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্বাহী অফিসার, পুলিশ, সাংবাদিকসহ উপস্থিতিদের সামনে চাল পাচারের ঘটনায় সরকারি দুইজন কর্মকর্তা (খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত অফিসার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার) এবং চাল-গম কেনাবেচা সিন্ডিকেটের শহিদুল ইসলাম, অষ্টম দাস, জগদিশ দাসসহ জড়িত অনেক কুশিলবদের নাম প্রকাশ করে। অথচ পুলিশ বাদি শুধুমাত্র আটক চাতাল মালিক মামুন এবং ট্রাকচালক ফরিদের নামে মামলা করেন। পুলিশ ৫ এপ্রিল মামুন এবং ফরিদকে যশোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানী শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আকরাম হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৭ এপ্রিল তাদেরকে আদালতে হাজির করে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সম্পা বসুর আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক মামুন এবং ফরিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

ভাগ