মনিরামপুরে আকবর হজগ্রুপের প্রতারনায় অর্ধশত হাজী হজ পালন থেকে বঞ্চিত

0

মজনুর রহমান,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাকোশপোল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আকরাম বিশ্বাস সস্ত্রীক হজব্রত পালনের জন্য ২০১৮ সালে আকবর হজ গ্রুপের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। আকরাম বিশ্বাস সস্ত্রীক হজের জন্য আকবর হজ গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি লুৎফুর রহমান ফারুকীর ভাতিজা মোয়াল্লিম মাওলানা মাহাবুবুর রহমানের সাথে ছয়লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন্ অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে দ্বিগুনহারে ১২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে তারপরও তারা হজব্রত পালন করতে সৌদি আরবে যেতে পারেননি। শুধু আকরাম বিশ্বাস নয়, এরকম প্রতারণা করা হয়েছে কাশিমনগর ইউনিয়নের হুমোতলা গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ, সাড়াপোল এলাকার আবদুল মজিদসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত অর্ধশত ব্যক্তির সাথে। আর এ সব ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন হারে প্রায় দুই কোটি টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। হজে যেতে না পারার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। ফলে এসব বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীদের রোষানল থেকে রেহাই পেতে মোয়াল্লিম মাহাবুবুর রহমান এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
জানাযায়, উপজেলার বাকোশপোল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আকরাম বিশ্বাস সস্ত্রীক হজব্রত পালন করতে ২০১৮ সালে আকবর হজ গ্রুপের মোয়াল্লিম মাওলানা মাহাবুবুর রহমানের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এ সময় মাহাবুবুর রহমানের সাথে তারা স্বামীস্ত্রী রেজিষ্ট্রেশনসহ হজব্রত পালন করতে তিন লাখ করে মোট ছয় লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে পাসপোর্ট জমা দেন। সে মোতাবেক চলতি বছর তাদের হজব্রত পালন করতে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মাহাবুবুর রহমান ইতিমধ্যে চুক্তির দ্বিগুন অর্থাৎ ছয়লাখ করে মোট ১২ লাখ টাকা আদায় করেন। আকরাম বিশ্বাস অভিযোগ করেন, হজফ্লাইট শুরু হবার পর থেকে মাহাবুবুর রহমান তাদেরকে সৌদি আরবে নিয়ে যাবার জন্য কয়েকটি তারিখ নির্ধারন করেন। কিন্তু অধ্যাবধি তাদেরকে নেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ করে হুমোতলা গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ জানান, তিনিও মাহাবুবের মাধ্যমে ২০১৮ সালে সাড়ে তিনলাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে রেজিষ্ট্রেশন করেন। তার কাছ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় চারলাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু তাকেও নেওয়া হয়নি। হজে যেতে ব্যর্থ হয়ে হাউমাউ করে কাদতে কাদতে আবদুল আজিজ জানান, আকবর হজ গ্রুপের মোয়াল্লিম মাহাবুবুর রহমানের কাছ থেকে তিনি একটি টাকাও এ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেননি। একই অভিযোগ করেন সাড়াপোল এলাকার আবদুল মজিদ। তিনি জানান, মাহাবুবুর রহমান বর্তমান এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
অপরদিকে পৌর শহরের গাংড়া এলাকার কাঠব্যবসায়ী হাজী আমজাদ আলী জানান, তারা কাছ থেকে প্রতারণা করে মাহাবুবুর প্রায় সাড়ে তিনলাখ টাকা নিয়েছেন। পৌরশহরের মাছবাজারের ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, তার কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ মাহাবুবুর প্রায় চারলাখ টাকা নিয়েছেন। এ অভিযোগ শুধু মনিরামপুরে নয়। হজের নামে এভাবে মাহাবুবুর রহমান প্রতারনা করেছেন কেশবপুর, পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত অর্ধশত ব্যক্তির সাথে। আর এসব ব্যক্তির কাছ থেকে হজব্রত পালনের জন্য তিনি বিভিন্ন হারে প্রায় দুই কোটি টাকা আদায় করেন। হজে যেতে বঞ্চিত হবার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। ফলে হজব্রত পালনে বঞ্চিতদের রোষানল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মাওলানা মাহাবুবুর রহমান এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এ ব্যাপারে কথা হয় মোয়াল্লিম মাহাবুবুর রহমানের ছোট চাচা আকবর হজ গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি লুৎফুর রহমান ফারুকীর সাথে। তিনি জানান মাহাবুবুর রহমান তার কাছে হজযাত্রীদের জন্য কোন টাকা জমা দেননি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খুব শিঘ্রই আকবর হজ গ্রুপ থেকে মাহাবুবুরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হবে। এ দিকে মাহাবুবুর রহমানের পিতা মতিয়ার রহমান জানান, ছেলের অপকর্মের খেসারত হিসেবে ঈদের পর তিনি জমি বিক্রি করে সকলের পাওনা পরিশোধ করবেন।উল্লেখ্য ইতিপূর্বে আকবর হজ গ্রুপের বিরুদ্ধে হাজীদের সাথে এধরনের প্রতারনার অনেক অভিযোগ রয়েছে।

Lab Scan