মনিরামপুরের দেলুয়াবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষিকা

0

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার ঘটনায় ওই শিক্ষিকাকে অবশেষে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মঙ্গলবার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন কমিটির সভাপতি ও ভোজগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান তজু। তবে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে ওই শিক্ষিকা জানিয়েছেন এখনও তিনি বরখাস্তাদেশ হাতে পাননি।

জানা যায়, দেলুয়াবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীহার রঞ্জনের সাথে বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে বেশ কিছুদিন এক সহকারী শিক্ষিকার বিবাদ চলে আসছে। গত রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে যান অফিস কক্ষে। কিন্তু খাতা না পেয়ে দুপুর একটার দিকে তিনি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যান হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের জন্য। কিন্তু শিক্ষিকার অভিযোগ এ সময় প্রধান শিক্ষক তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে তার কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক তার শরীরে হাত তোলাসহ কাপড় ধরে টানাটানি করেন। প্রতিবাদে ওই শিক্ষিকা কক্ষের মধ্যেই প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিত শান্ত করেন। এ ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলে সোমবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার বিদ্যালয়ে যান তদন্ত করতে। তিনি জানান, তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। শেষ হলে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। কিন্তু সভায় ওই শিক্ষিকা তার আনিত অভিযোগ প্রমান করতে ব্যর্থ হন। ফলে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ওই সভায় উপস্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, শ্লীলতাহানির ব্যাপারে তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। বিদ্যালয়ে যথাসময়ে উপস্থিত না হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ইতিপূর্বে তাকে পর পর তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে কোন জবাব দেননি তিনি। ফলে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ওই শিক্ষিকা জানান, এখনও তিনি বরখাস্তাদেশ হাতে পাননি।

Lab Scan