মণিরামপুরে লাম্পি স্কিন রোগে মারা যাচ্ছে গরু

0

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় এ রোগ বিস্তার করছে। ফলে আতঙ্কে আছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এ রোগের প্রতিকার পেতে গবাদিপশু পালনকারীরা ছুঁটছেন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসে। কিন্তুু এই রোগ থেকে দ্রুত সেরে উঠছে না আক্রান্ত কোন পশু। খামারিরা বলছেন, মহামারি আকারে ছড়াচ্ছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ। এই রোগে গবাদিপশু খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে, এ কারণে দুর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে।
বৃহত্তর এ উপজেলার রোহিতা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক হারে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই মাস ধরে এই রোগ বিস্তার করেছে এসকল ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে। এই রোগের প্রতিকারের কোনও ব্যবস্থা নেই। এই লাম্পি স্কিন রোগ এক গরু থেকে আরেক গরুর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যে কারণে প্রতিটা এলাকায় কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে অসুস্থ গরু কম দামে বিক্রির হিড়িক পড়েছে।
এই রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার রাজগঞ্জ কলেজপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের একটি, মনোহরপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের একটি ও একই গ্রামের জামাল হোসেনের একটি, চন্ডিপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের একটি, ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের জিয়াউর রহমানের দুটি ও কোমলপুর জেলে পাড়ার সুবোদ কুমারের একটি গরু মারা গেছে। হানুয়ার গ্রামের বিপ্লব হোসেন ও চন্ডিপুর গ্রামের মিলন হোসেন জানান, এ রোগে আক্রান্ত গরুগুলো কিছুই খাচ্ছে না। শরীরে প্রচন্ড জ্বর থাকছে কয়েকদিন। এরপর ফোস্কার মত চাকা চাকা হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।
এসময়ে গাভী ও বাছুর কিছুই খাচ্ছে না। এ রোগের কারণে দিনদিন গবাদি পশুগুলো অনেকটা দুর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে। একটি গরু আক্রান্তের কয়েক দিনের মধ্যে অন্যান্য গরুগুলোর গায়ে ও লাম্পি স্কিন ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত গরুর মালিকেরা চিকিৎসক দেখাচ্ছেন কিন্তু কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না। সম্প্রতি খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাঞ্চি গ্রামের আবু কালাম এক লাখ টাকা দামের একটি গরু মাত্র ৪৫হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের তথ্যানুযায়ী এলএসডি একটি পক্স ভাইরাস যা গবাদিপশুর গুটিবসন্ত নামে পরিচিত। এই রোগের সংক্রমনে গবাদিপশুর শরীরের অনেক স্থানে ক্ষত হয় এবং গায়ে জ্বর থাকে। এ কারণে আক্রান্ত গরুগুলো অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি নাক-মুখ দিয়ে লালা ঝরতে থাকে। এই রোগ অত্যান্ত সংক্রমণশীল ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এক পশু থেকে অন্য পশুর গায়ে। এই রোগ মূলতই মশা-মাছির থেকে ছড়াই বলে দাবি করেন স্থানীয় পশু চিকিৎসকেরা।
মণিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায় বলেন, লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে পশু ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত গরুকে জিং ও এন্টি হিস্টামিন নাশক ওষুধ দিতে হবে। সেই সাথে গরুর খামার বা গোয়াল ঘরের আশপাশ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

 

 

Lab Scan