মণিরামপুরে ব্যবসায়ীর সাড়ে ছয় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক ৩

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারের মাছের আড়ৎ ব্যবসায়ী মো. আলালের সাড়ে ৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ৩ যুবককে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। গত শনিবার রাতে যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর সেগুনবাগান এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে দীন ইসলাম (২৮), ধর্মতলা কদমতলা সরদারপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে ইমরান হোসেন (২৬) ও সুলতানপুর সরদারপাড়ার খবির মাঝির ছেলে সুজন আহমেদ (২৮)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, মণিরামপুর উপজেলার কোমলপুর গ্রামের মৃত আকবার আলী বিশ্বাসের ছেলে আলালের রাজগঞ্জ বাজারে মাছের আড়ৎ ব্যবসা রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হানুয়ার পূর্বপাড়ার মৃত ওমর আলী গাজীর ছেলে মিলনের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জন গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাইক্রেবাসে করে এসে মারধর এবং সাড়ে ৬ লাখ টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ কেড়ে নিয়ে যান বলে থানায় মামলা করেন। রাজগঞ্জ বাজার থেকে তিনি মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে হানুয়ার গ্রামের জনৈক মোস্তফা ডাক্তারের আমবাগানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মামলাটি তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে এজাহারভুক্ত আসামি মিলনের ৩ সহযোগী দীন ইসলাম, ইমরান হোসেন ও সুজন আহমেদকে শনাক্ত করা হয়। এরপর গত শনিবার রাতে যশোর শহরের ধর্মতলা থেকে তাদের আটক করা হয়। রোববার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসু তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
তিনি আরো জানান, এরআগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা মিলনের সাথে মাইক্রোবাসে করে হানুয়ার গ্রামে গিয়ে বাদি আলালকে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে টাকা ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তারা দাবি করছেন। ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আলালের দায়ের করা মামলার আসামি মিলন এক সময় বিদেশে ছিলেন। স্বামী বিদেশ থাকায় এই সুযোগে আলালের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন মিলনের স্ত্রী। পরে মিলনকে তালাক দিয়ে আলালকে বিয়ে করেন ওই নারী। পরে মিলন দেশে ফিরে এলে আলালকে তালাক দিয়ে ফের তাকে বিয়ে করেন ওই নারী। মূলত এই ঘটনা নিয়ে আলাল ও মিলনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। মিলন যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকায় বাড়ি বানিয়ে বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন। সেই সুবাদে দীন ইসলাম, ইমরান হোসেন ও সুজন আহমেদের সাথে তার পরিচয়। তিনি তাদেরকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে হানুয়ার গ্রামে গিয়ে আলালের ওপর চড়াও হয়েছিলেন তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে আটকরা টাকা ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করছেন।

 

Lab Scan