মণিরামপুরে বছর পার হলেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৮ পরিবার এখনও পায়নি ঘরের মালিকানা

0

মজনুর রহমান,মণিরামপুর (যশোর) ॥ মণিরামপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীন ছিন্নমূল ৩৮ পরিবারকে ঘর বরাদ্দের প্রায় এক বছর সময় অতিক্রম হলেও এখনও তাদের কপালে জোটেনি ঘরের মালিকানা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে খরচ বাবদ টাকা নেওয়া হলেও হস্তান্তর করা হয়নি জমির দলিল। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীন সরকার গত বছর মণিরামপুর পৌর শহরের হাকোবা, তাহেরপুর, গাংড়া, দুর্গাপুর, বিজয়রামপুরে খাস জমিতে মোট ৩৮ টি ঘর নির্মাণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি পরিবারের জন্য দুই শতক জমির ওপর বারান্দাসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ঘর ছাড়াও নির্মাণ করা হয় শৌচাগার ও রান্না ঘর। এসব স্থানে প্রায় এক বছর আগে ৩৮ টি পরিবারের নামে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই থেকে ছিন্নমূল ৩৮ টি পরিবার ওই ঘরে বসবাস করে আসছেন। ওই ঘরের মালিকানা হিসেবে দলিল হস্তান্তরের জন্য বিভিন্ন খরচ বাবদ তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ হাজার ৯০ টাকা করে। কিন্তু এক বছর পার হলেও তাদের কাছে সেই দলিল এখনও হস্তান্তর করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন কথা হয় তাহেরপুর এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের সাথে। এখানে মোট সাতটি ঘরে সাতটি পরিবার বসবাস করছেন। কথা হয় এখানকার বাসিন্দা গৃহবধূ রিপা খাতুনের সাথে। তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে ঘরে ওঠার সময় জমির মালিকানা হিসেবে দলিল(রেজিস্ট্রি) বাবদ তার কাছ থেকে পৌরসভার ভূমি অফিসের নায়েব ২ হাজার ৯০ টাকা করে আদায় করেন। কিন্তু এক বছর পার হলেও এখনও তাকে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়নি। এ অভিযোগ শুধু রিপা খাতুনের নয়। একই অভিযোগ করেন এখানে বসবাসকারী অজুবা বেগম, রাবেয়া বেগমসহ সাত ভূমিহীন পরিবার। অজুবা বেগম জানান, প্রায় একবছর আগে এ জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। অথচ তাদের কাউকে এখনও দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ রয়েছে গাংড়া, দুর্গাপুর ও বিজয়রামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের। হাকোবা এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে রয়েছে ১৬ টি ঘর। ১৬ টি পরিবার এখানে বসবাস করছেন। কিন্তু তাদের নামে এখনও ওই জমি রেজিস্টি করে দেওয়া হয়নি। এখানকার বাসিন্দা রুমা বেগম জানান, গত বছর সরকারি লোকজন এসে তাদেরকে ঘর বুুুঝিয়ে দেন। কিন্তু এ জমি এখনও তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। একই অভিযোগ করেন রুপালি বেগম, নাজমা খাতুনসহ অন্যান্যরা। জানা গেছে সরকারি খাস জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীন নির্মিত এসব ঘর ছিন্নমূলদের নামে বরাদ্দের পর জমির মালিকানা হিসেবে তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দলিল হস্তান্তর করার নিয়ম। অথচ পৌর এলাকায় নির্মিত মোট ৩৮ টি ঘরের বাসিন্দাদের মধ্যে কাউকে দলিল হস্তান্তর করা হয়নি। সদ্য যোগদানকারী পৌরসভা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদাত হোসেন জানান, জমির নিবন্ধন, নামজারি ও নকল তোলা বাবদ তাহেরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাত বাসিন্দার কাছ থেকে ২ হাজার ৯০ টাকা করে আদায় করা হয়েছিল শুনেছি। কিন্তু জমি বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় তাঁদের কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হরে কৃষ্ণ অধিকারী জানান, পৌর এলাকার সরকারি জমিগুলো অকৃষি খাস জমি, বিধায় পৌর শহরের ৩৮ ভূমিহীনের জন্য নির্ধারণ করা জমির কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে ভূমিহীনদের মাঝে জমির দলিলপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

Lab Scan