মণিরামপুরে আউশের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

0

 

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর)॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের শীষ। জমিতে রোপণের তিন মাস পরই কাঁচি হাতে আউশ ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত বৃহত্তর এ উপজেলার কৃষকরা। চলতি আউশ মৌসুমে আবহাওয়া অনেকটা অনুকুলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে বেশ খুশি এলাকার চাষিরা। বেশি দামে ডিজেল কিনে জমিতে সেচ দেয়া শ্রমিকের দাম বেশিসহ খরচ এবার অনেক বেশি বলে জানান তারা। তবে বাজারে ধানের দামে বেশ হতাশ চাষিরা।
উপজেলার রোহিতা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের এ আউশ ধান কাটাও ঝাড়ার কাজ চলছে পুরোদমে। মাঠে কৃষকেরা ধান কেটে আঁটি বেঁধে কেউ মাথায় করে, কেউবা আবার পরিবহনে বাড়িতে অথবা পাকা রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাকা সড়কের উপর এবং বাড়ির উঠানেই চলছে আউশ ধান ঝাড়ার কাজ। স্থানীয় কৃষক বিল্পব হোসেন গাজী ও লিয়াকত আলী বলছেন, চলতি বছর আউশ মৌসুমে আবহাওয়া অনেকটা অনুকূলে থাকায় প্রতিটা ক্ষেতে ধানে কোন রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ ছিলনা। যে কারণে গত বছরের চেয়ে এবার আউশ ধানের ফলন অনেকটা ভালো হয়েছে।
উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করে ৩৩ শতকের প্রতি বিঘা জমিতে এবার ১৭ থেকে ১৮ মণ করে ফলন পাওয়া গেছে। এছাড়া ৪৮শতকের প্রতি বিঘা জমিতে ২১ থেকে ২২ মণ করে ফলন পেয়েছেন চাষিরা। খুবই কম খরচে চলতি আউশ মৌসুমে চাষিরা ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে বেশ খুশি। তবে হাট-বাজারে ধানের দাম অনেকটা কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। চাষিরা জানান, বাজারে ডিজেল-সারসহ প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশ ছোঁয়া অথচ ধানের দাম নেই। ধানের বাজারদরসহ কৃষকদের প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজর দেয়া খুবই প্রয়োজন বলে মনে করেন কৃষকরা।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় মোট ৪ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। যা গত মৌসুমের চেয়ে ২০ হেক্টর জমিতে চাষ বেশি হয়েছে। গত বছর ৪ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছিল। চলতি আউশ মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৭ হাজার ২শ ২০ মেট্রিকটন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা আউশ ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছে।
ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের বর্গাচাষি নজরুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিন জানান, চলতি আউশ মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছিল। সেচসহ সার কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ এবার অনেকটা বেড়ে গেছে। তারপরও এবার ফলন অনেক বেশি ভালো হওয়ায় বিঘাপ্রতি ভালোই ধান পেয়েছি। তবে বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বেশ হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।
রাজগঞ্জ বাজারের ধান ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম ও ইমরান হোসেন জানান, প্রকার ভেদে বাজারে ধান ক্রয় করা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১৩শ টাকা পর্যন্ত মণ। তবে এবার আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া ধানের গুণগত মানও গত বারের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। যে কারণে বাজারে কৃষকেরা ধানের দাম এবার একটু বেশি পেয়ে খুব খুশি বলে জানান এ ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার জানান, প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আউশ মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পাওয়া যায়। তাই বাড়তি সেচের কোন প্রয়োজন হয়না। তবে এ মৌসুমে বৃষ্টি অনেক কম হওয়ায় চাষিদের সেচের পাম্পের মাধ্যমে ক্ষেতে সেচ দিতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকের খরচ একটু বেশি হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার আউশ ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছে কৃষকরা। আর এ জন্যে মণিরামপুর উপজেলায় দিনদিন আউশ ধান চাষও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বক্ষণিক সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি নানা পরামর্শ দেয়ায় কৃষকেরা এবার আউশের বাম্পার ফলন পেয়েছে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

Lab Scan