ভয়াল সিডর: দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আজও কাটেনি

0

নজরুল ইসলাম আকন, শরনখোলা॥ ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর এই দিনে সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হেনেছিলো সুন্দরবন উপকুলীয় শরণখোলায়। ২৪০ কিঃমিঃ গতি বেগ সম্পন্ন ঘুর্নীঝড় নিমেষেই ২৫ কিঃমিঃ বেড়ীবাধ ভেঙ্গে লন্ড-ভন্ড হয়ে যায়। ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাস আছরে পড়ে গ্রামে। মানুষের ঘর- বাড়ি, রাস্তা-ঘাট যায় বিলীন হয়ে। প্রানহানি ঘটে ৯ শতাধিক মানুষের। মৃতের মধ্যে অধিকাংশই ছিলো শিশু ও নারী। সেদিন ৬ সহাস্রাধিক গবাদি পশু মারাযায়। ১০ সহাস্রাধিক মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। ৬ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষেতেই পচে যায়। মানুষ ও গবাদি পশুর লাশ একই সাথে ভাসতে থাকে। পানিতে মানুষের দাফন সম্পন্ন করতে না পেরে উচু মাটির ডিবির মধ্যে গন কবর দেওয়া হয়। ঘর- বাড়ি সহায় সম্বলহীন মানুষ আশ্রয় নিতে থাকে টিকে থাকা বেড়ি বাধের উপর। দেখাদেয় তীব্র খাদ্য সংকট। সরকারী এবং দেশী বিদেশী বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাহায্যের হাত নিয়ে এগিয়ে আসে।
গৃহহীনদের ঘর প্রদান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দেয় সরকার। সৌদি আরব ও ভারত সরকার ৫ সহাস্রাধীক ঘর প্রদান করেন। দেশীয় এনজিও সংস্থা সমুহের সার্বিক সহায়তায় মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করে। প্রদানকৃত সে সব ঘর স্বপরিবারে বসবাসের যোগ্য না থাকায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আজও কাটেনি। বেড়িবাধ তীরবর্তী অনেক দুস্থ পরিবার এখনো গৃহহীন রয়েছে। সাউথখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জানান, সাউথখালীতে এখনও প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের ঘর দরকার। নিম্নমানের ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা বসবাস করছে। নদীশাসন আন্দোলন কমিটির আহবায়ক আসাদুজ্জামান মিলন জানান, নদী শাসন চাড়া টেকসই বাধ হওয়া সম্ভব নয়। প্রতিনিয়ত নদী ভাঙ্গছে। ঝুকির মুখে রয়েছে নির্মিত বেড়িবাধ। উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত জানান, শরনখোলায় এখনও কমপক্ষে অর্ধশত সাইক্লোন শেল্টার নির্মান করা দরকার।

Lab Scan