ভিডিও গেমে সৃজনশীলতা বাড়ে

    শিশু-কিশোর কিংবা তরুণদের ভিডিও গেমে আগ্রহের শেষ নেই। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলে কাটিয়ে দিচ্ছে। প্রচলিত আছে, এ ধরনের ভিডিও গেম আসক্তি খুবই খারাপ। কোনো মা-বাবাই চান না, তাদের সন্তান ভিডিও গেমে বুঁদ হয়ে থাকুক। তবে যেমনটা ভাবা হতো, ভিডিও গেম খেলা ততটা খারাপ নয়। বেশকিছু গেম মানুষের সৃজনশীল শক্তি বাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি ক্রিয়েটিভিটি রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।
    সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দাবি, মাইনক্র্যাফট সিরিজের মতো বেশকিছু গেম গেমারকে সৃজনশীলতার কিছু স্তর সম্পর্কে অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভিডিও গেম খেললে শিশুদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তারা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক বিচার করতে শেখে এবং সমবয়সীদের সঙ্গে ঠিকভাবে মিশতে পারে। সৃজনশীল নানা বিষয়ে তারা সেই শিশু-কিশোরদের চেয়ে এগিয়ে থাকে, যারা ভিডিও গেম একেবারেই খেলে না।
    গবেষকরা প্রতিবেদনটি তৈরিতে ৩৫২ জন অংশগ্রহণকারীর মনস্তাত্ত্বিক দিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় নির্দেশনা মেনে বা নির্দেশনা ছাড়াই গেমারদের ওপর মাইনক্র্যাফট খেলার প্রভাব, টিভি শো দেখা অথবা রেসিং কার ভিডিও গেম খেলার প্রভাবের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। দেখা যায়, ৪০ মিনিট ভিডিও গেম খেলা কিংবা টিভি দেখার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারী বেশকিছু সৃজনশীল কাজের স্বচ্ছ ধারণা পেয়ে যান। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সৃজনশীল উৎপাদন সক্ষমতা পরিমাপের জন্য তাদের পৃথিবীর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জগতের কিছু আঁকতে বলা হয়। সৃজনশীলতা বিবেচনায় মানুষসদৃশ ছবিগুলো কম স্কোর পেয়েছে এবং মানুষসদৃশ নয় এমন আঁকা ছবিগুলো বেশি স্কোর পেয়েছে।
    গবেষকদের দাবি, মাইনক্র্যাফট এমন একটি গেম, যা গেমারকে অনন্য একটি বিশ্ব আবিষ্কারের ভ্রমণে আগ্রহী করে তোলে। অর্থাৎ যাদের এ গেম খেলার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, তারা তাদের কল্পনার চেয়ে ভালো কিছু সৃষ্টিতে সক্ষম। তবে যারা নির্দেশনা মেনে খেলে তারা তুলনামূলক কম সৃজনশীল হয়।
    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডগলাস জেনটাইল বলেন, শুধু মাইনক্র্যাফট গেম গেমারের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে এমন নয়। ভার্চুয়াল জগতে এ রকম অসংখ্য ভিডিও গেম আছে। এক্ষেত্রে শিশু-কিশোর কোন ধরনের গেম খেলছে, তা পছন্দ করাটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
    গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক জর্জ ব্লাঙ্কো বলেন, মাইনক্র্যাফট ভিডিও গেম খেলার সময় নির্দেশনা পাওয়া গেমার দল কেন কম স্কোর পেয়েছে, তার সঠিক কোনো ব্যাখ্যা নেই। তবে এখানে নিশ্চয় কিছু সম্ভাব্য কারণ আছে।
    তিনি বলেন, মাইনক্র্যাফট গেমারদের নির্দেশনা দেয়া হলে খুব সম্ভবত তাদের পরাধীনতা বোধ কাজ করে। যে কারণে তাদের সৃজনশীলতা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এমনটাও হতে পারে যে বাড়তি চাপ নিয়ে খেলতে গিয়ে তাদের সৃজনশীলতা হ্রাস পায়। তবে বেশির ভাগ ভিডিও গেমই গেমারকে সৃজনশীলতার কিছু স্তর অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
    গবেষকদের দাবি, ভিডিও গেম থেকে গেমার বেশকিছু নতুন বিষয়ে ধারণা পায়। ভিডিও গেম খেলার ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে পড়াশোনা ও পারিবারিক সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত ভিডিও গেম খেলার নেতিবাচক দিকও রয়েছে।

    ভাগ