ভালো ভালো কথা-মন্দ মন্দ কাজ

ড. আবদুল লতিফ মাসুম
আওয়ামী লীগ তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূর্ণ করেছে গত সপ্তাহে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এক বছরের অর্জন বর্জনের হিসাব-নিকাশের প্রশ্ন এসেছে। এ দেশে নিরপেক্ষ জনমত যাচাইয়ের যদি কোনো ব্যবস্থা থাকত তাহলে জনগণের অনুভূতির প্রকাশ ঘটত। কিন্তু তা না ঘটলেও সংবাদপত্রের পাতায় আকারে প্রকারে নিত্যদিন অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ন্যূনতমপর্যায়ে আনীত হলেও, দু-একটি কালচার সর্বজনগ্রাহ্য হয়েছে। যেমন ধরুন, ‘অনলাইন ও ফেসবুক ভোট’, ‘অনলাইন জনমত জরিপ’ ও ‘জনগণের মতামত’- এ রকম শিরোনামে প্রতিটি দৈনিকে প্রতিদিন কমবেশি মতামতের প্রকাশ ঘটছে। এসব জরিপে শতভাগ জনগণের মতামত প্রকাশিত না হলেও একটা ধারণা আসে মানুষের ভাবনা-চিন্তা সম্পর্কে। যেমন ধরুন, একটি জনপ্রিয় দৈনিকে প্রশ্ন ছিল- এভিএমে ভোট কারচুপির সুযোগ নেই- সিইসির এই বক্তব্যে আপনার আস্থা আছে কি? ৮৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মানুষ না সূচক উত্তর দিয়েছে। ১২ শতাংশ ভোট পক্ষে পড়েছে। মন্তব্য নেই ২ দশমিক ২ শতাংশ। এ রকমভাবে সব পত্রিকার এ মতামত জরিপ ব্যবস্থা যদি আপনি অবলোকন করেন- তখন আপনাকে অবশ্যই হতাশ হতে হবে। সরকার কত ভাগ কাজ ভালো করছে বা কত ভাগ কাজ খারাপ করছে, এ ধরনের প্রশ্ন করা কঠিন বা প্রায় অসম্ভব।
তবে সরকারের প্রতিনিধিত্বশীল মানুষগুলোর মন্তব্যের আলোকে ভালো-মন্দ যাচাই করা যায়। আজকাল মতামত প্রকাশের এতসব ব্যবস্থা প্রচলন হয়েছে যে, সরকার আইন ও বিচার করতে হিমশিম খাচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে অনেক মতামত প্রকাশের বাহন রয়েছে। এগুলো ভিজিট করলে দেখা যায়, মানুষ ‘হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’। আর এসব কথা কোনো স্তুতি বা প্রশস্তি নয়। বরং উল্টোটি। যখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলি তখন কথাবার্তা হয় আইনানুগ, লোকরঞ্জনমূলক ও চিত্তাকর্ষক। এ বিষয়ে সরকারের নেতা-নেত্রীদের জুড়ি নেই। এক টকশোতে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সাথে ছিলাম আমি। দর্শকের প্রশ্ন ছিল, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার বিচার হবে কি না? আমি বলেছিলাম, বিচার হবে না। আমার এরকম মন্তব্যের কারণ ছিল সোনার ছেলেদের প্রতি সরকারের বিচারহীনতার সংস্কৃতি। তখন কামরুল ইসলাম অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন, বিচার হবেই। মন্ত্রীর এই মন্তব্য ছিল আইনানুগ, আনুষ্ঠানিক ও সরকারের বিঘোষিত দৃশ্যমান নীতির প্রতিফলন। তিনি যদি বুঝেও থাকেন, বিচার হবে না- তাহলে তিনি কি তা বলতে পারবেন? সবাই দেখেছেন ও জেনেছেন বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায়।
নিম্ন আদালতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী আটজনের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরে হাইকোর্ট এই আটজনের মধ্যে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দিয়েছেন। এই রায়ের পর বিশ্বজিৎ দাসের ভাই উত্তম দাস বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘পাঁচ বছর পরে আরেকটি দুঃসংবাদ এটা। আজকের দিনটাতে যে এ রকম কিছু শুনতে হবে আমরা আশাই করিনি। এটাই ঠিক যে, সরকার যা চাইবে তাই হবে। সরকার যদি চাইতো যে অন্তত বিশ্বজিৎ এর ঘটনাটার সুষ্ঠু বিচার হোক- তাহলে হতো। কোথায় আটজনের মৃত্যুদণ্ড সেখানে এলো দু’জনের। কী বলব? বলার ভাষা নেই।’ মূল মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত ২১ জনের মধ্যে আট জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছিলেন। মজার বিষয় এই মামলার মোট ২১ আসামিদের মধ্যে মাত্র আট জন আটক ছিল। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি- এরকম খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আপনারা সাক্ষী থাকুন যে দুইজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে তাদের রায়ও কার্যকর হবে না। তার কারণ, তারা সোনার ছেলে। প্রায় এক যুগ ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন। এরকম হাজারো উদাহরণ দেয়া যাবে যেখানে কথা ও কাজের মিল নেই। আইনের শাসনের বিপরীতে সরকারের মেজাজ-মর্জি অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালিত হওয়াই আজকের সুশাসনের অভাবের কারণ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার তৃতীয় মেয়াদের দায়িত্ব পালনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণটি অত্যন্ত সুলিখিত ও সুপঠিত। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রদত্ত ভাষণে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের রায়ই হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের একমাত্র উপায়। যেকোনো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে অযৌক্তিক দাবিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড আমরা বরদাস্ত করব না।’ ভাষণে সরকারে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করেন। এ সময়ে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমি আবারো সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই- দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহŸান থাকবে, যে-ই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সাথে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। সাধারণ মানুষের হক যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দ্বিধা করব না’।
শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানি থাকবে না। সব ধর্ম, বর্ণ এবং স¤প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন’। সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এইসব বক্তব্য ও উচ্চারণ প্রকৃত একজন রাষ্ট্রনায়কোচিত ও প্রত্যাশিত বক্তব্য। আওয়ামী লীগকে প্রধানমন্ত্রী একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের তৎকালীন এই অংশের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে নিরলস আন্দোলনকারী প্রধান রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতার রক্তলাল সূর্যকে তারাই ছিনিয়ে এনেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তীকালে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার সাথে তাদের নীতি ও কর্মসূচির সামঞ্জস্য কি ছিল? রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান আওয়ামী লীগের ওই সময়ের কার্যক্রমকে গণতন্ত্রের পরিপূরক মনে করেন না। উত্তরাধিকারের রাজনীতি আক্রান্ত এই দেশে দলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা কি সম্ভব? হয়তো বা এটাই নিয়তি। অপ্রিয় নিয়তি। সংবিধানের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল থাকার দাবি করেছেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ১৭ বার যদি এই সংবিধানটি সংশোধিত হয়ে থাকে তাহলে অন্তত ১০ বার হয়েছে তাদের হাতে নিজেদের প্রয়োজনে। এই স্বল্প পরিসরে প্রতিটি সংশোধনীর উল্লেখ ও ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।
আমি শুধু প্রধান দু’টি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করব। সবাই জানেন, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়েছিল। সেটি সে সময়ের কাজ। এবারের পনেরোতম সংশোধনীর মাধ্যমে জাতির একটি বড় ঐকমত্যের অর্জনকে বিসর্জন দেয়া হয়েছে। আর তা হচ্ছে নির্বাচনকালীন ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’। দুটো সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনব্যস্থার মৌলিক পরিবর্তন শোষিত হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের বিরাজিত, ধূমায়িত ও অদৃশ্য রাজনৈতিক সঙ্কটের মূল কারণ এই সংশোধনী। অথচ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই তাবেদার সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। রাজনীতিতে জয়-পরাজয় থাকবেই। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার এই গণইচ্ছাবিরোধী কাজটি সরকারের মন্দ কাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট উদাহরণ। আইনের শাসনের প্রতি প্রধামন্ত্রীর অনুমোদন তার ভালো ভালো কথার উত্তম উদাহরণ। প্রবাদ বাক্যের মতো বলা হয়, ‘হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না’। এ দেশে হুকুম দিয়ে যে বড় হাকিম এখন বড় জুলুমের শিকার হলেন- তার উত্তর কী?
গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থায় নির্বাচনই হচ্ছে সরকার বদলের একমাত্র পন্থা। দেশে দু-দুবার নির্বাচন ব্যতিরেকেই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। একজন প্রকৃত গণতন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিপূর্ণ। কিন্তু কষ্টের কথা হচ্ছে এই- ১৯৭৩ সালের নির্বাচনকে সরকার ছাড়া সব পক্ষই প্রশ্নবিদ্ধ বলেছিল। ২০১৪ সালে যে গায়েবি নির্বাচন হয়েছিল সে সম্পর্কে খোদ প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই তিনি বিরোধীদের নির্বাচনে অংশ না নেয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুগতা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি কি পূরণ হয়েছিল? ২০১৮ সালের ‘নিশীথ নির্বাচন’ কি নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে দেয়নি? এই সে দিন, ১৩ জানুয়ারি ২০২০ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত অতি নগণ্য একটি উপনির্বাচনে সরকারি দল তাদের অনুসৃত কৌশলের পুনরাবৃত্তি না ঘটালে কি আকাশ ভেঙ্গে পড়ত! ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সুতরাং নির্বাচন ব্যবস্থার এই বিপর্যয়ের জন্য, বিশ্বাস ভঙ্গের জন্য জনগণ কি তাদের দায়ী করতে পারে না। এই দেশে যত আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে তার পুরোভাগে ছিল আওয়ামী লীগ। সেই আন্দোলন ও সংগ্রাম শান্তিপূর্ণ ছিল। বিরোধী দলের মানববন্ধনও কি সহিংস? জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সা¤প্রতিক আন্দোলনে পুলিশের নির্মমতা কি আইনানুগতার প্রমাণ দেয়? আন্দোলনটি কোনটি যৌক্তিক আর কোনটি অযৌক্তিক তার মাপকাঠি কী? যেকোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন যেভাবে মোকাবেলা করা হচ্ছে তা কি সংবিধান, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়?
প্রধানমন্ত্রী জাতিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে সক্রিয় করা হয়েছে। ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। এই দুদক যখন মানুষ গ্রেফতার করছে বা তাদের আইনের আওতায় সরাসরি নিয়ে আসছে তখন প্রধানমন্ত্রী দুদক সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করলেন। এর দ্বারা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সক্রিয় হবে নাকি নিষ্ক্রিয় হবে? দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হয়েছিল তা এখন নিষ্ক্রিয় কেন- এ প্রশ্ন নাগরিক সাধারণ সঙ্গতভাবেই উত্থাপন করতে পারেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই ইতোমধ্যে সাধারণ নাগরিকরা না হলেও অসাধারণ নাগরিকরা প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর গণমাধ্যমের যে প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে তা খুব সুখকর নয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সফলতার প্রশংসা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে তার সমালোচনা। একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় লক্ষ করা গেছে যে, চ্যানেলগুলো সর্বাংশেই যখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ তেমনি সংবাদপত্রগুলো গরিষ্ঠভাবেই বিরূপ। বেশির ভাগ বিশ্লেষক গত বছরের হিসাব-নিকাশকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ বছর বলে বর্ণনা করেছেন। গত বছরে অব্যাহত পদ্মা সেতু কিংবা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের মতো মেগা প্রজেক্টের প্রশংসা করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে না রাখতে পারার জন্য সরকার তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ নিয়ে সরকার যে অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা দেখিয়েছে তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষায়, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ভাষ্যমতে, সরকারের কৃতিত্বের তালিকা দীর্ঘ। তবে তালিকায় যা অনুপস্থিত তা হচ্ছে, বিরাজনীতিকরণের সাফল্য। সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার ক্ষমতা প্রায় পুরোটা রহিত করে দিয়েছে। তা সেটি নির্বাচনী লড়াইয়ে হোক কিংবা রাজপথে শক্তি প্রদর্শনে’। ‘সরকারের ভালো ভালো কথা আর মন্দ মন্দ কাজের’ বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ভালোর চেয়ে মন্দের প্রাধান্য দিচ্ছেন। অবশেষে একটি পদ্য দিয়ে শেষ করি, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’।
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com

ভাগ