ভাতা নিয়ে প্রতারণা : অর্ধলক্ষাধিক টাকা খোয়ালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

0

শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা॥ মাগুরার শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন মনিরার পরিচয় দিয়ে অভিনব কৌশলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাসের ৬২ হাজার ২ শত টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামের মৃত সুবল বিশ্বাসের ছেলে ও আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দফাদার। টাকা ফিরে পেতে তিনি শালিখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি প্রতারকচক্র চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তিনি জানান, গত শনিবার ০১৯৯৯-৪৩১৬১০ নম্বর থেকে এক নারী ফোন করে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বলেন, আপনি কি মুক্তিযোদ্ধা ? আমি বলি হ্যাঁ । তিনি বলেন, আপনার নামে (নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস) ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা এসেছে আপনি উক্ত টাকা পেতে চাইলে ভ্যাট বাবদ ৬২ হাজার ২ শত টাকা পরিশোধ করুন। আমি বিষয়টি নিশ্চিত হতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় যায় এবং জানতে পারি তিনি ঢাকায় আছেন পরে। ওই প্রতারক চক্র ০১৯৫০৮৫৬২৯ নম্বর দেয় এবং বলে এটি সোনালী ব্যাংক শালিখা শাখার ব্যবস্থাপকের নম্বর। আমি ওই নাম্বারে ফোন ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বলছি। পরে তিনি আমাকে বলেন, আজ তো শনিবার ব্যাংক বন্ধ এবং আপনি আমাকে ০১৯৫৯-০০৮৫৬২৯ এবং ০১৮২৫-৭৬০৪১২ নম্বরে নগদ একাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলে। আমি দুইটি নম্বরে প্রথমে ৩৪ হাজার এবং পরে ২৮ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিই। এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক শালিখা শাখার ব্যবস্থাপক আলমগীর হাসানের কথা হলে তিনি বলেন, আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তবে পরে যখন বিষয়টি জানতে পারি তখন নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস নামে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দিই।
এ ব্যাপারে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন মনিরা বলেন, তিনি জরুরি একটি কাজে ঢাকায় ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। পাশাপাশি তিনি বলেন, আমার নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে যদি কোন ব্যক্তি কারো কাছে অর্থ চাই তাহলে কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান যদি আমাকে না জানিয়ে কোনো অর্থ লেনদেন করে তাহলে তার দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।

Lab Scan