ভর্তিযুদ্ধ ও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা

0

ড. মাহবুব হাসান
আমাদের সামাজিক জীবনের শুরুটাই যুদ্ধ দিয়ে। বলা যায় আমাদের সামাজিক, পারিবারিক জীবনে শিশুদের স্কুলে ভর্তি নিয়ে যুদ্ধের সূচনা। আর এর চূড়াটি দেখা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়। এই গোটা সময়টাই (৪/৫ বছর বয়স থেকে ১৬/১৭ বছর পর্যন্ত মোটামুটি ১০/১১ বছর) একটি পরিবারকে টান টান টেনশনের মধ্যে রাখে। একটি ভালো মানের স্কুলে/কলেজে সন্তানের ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মা-বাবার চিন্তায় উদিত হয় পরবর্তী ক্লাসে বা পরবর্তী ধাপের জন্য অন্য স্কুলে বা কলেজে ভর্তির চিন্তা। কলেজ পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মধ্য দিয়ে এর অবসান বা ইতি। বলা যেতে পারে, একজন মা বা বাবার টেনশনমুক্ত জীবন! কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগ পর্যন্ত এই টেনশন এতটাই বাড়ে যে, আমাদের মনে হতে থাকে এই মানবজীবনের কোনো মানে নেই। এই পর্যায়ে এসেই দেখা যায় ভর্তিযুদ্ধের শৈলশিখরটি। এইচএসসির রেজাল্ট প্রকাশের পর শিশু-কিশোরদের উল্লসিত অথবা বেদনাহত মুখ আমরা দেখতে পাই। আমরা চাই সব শিশুই কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক বা হতে পারুক। কিন্তু মানভেদে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুরা ভর্তি হতে পারে না। তাই চুন-মুখ করে ফিরে আসতে হয় অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবককে।
২.
টাঙ্গাইল থেকে একটি কিশোর ঢাকার একটি নামী কোচিং সেন্টারে এসেছে, যাতে সে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। সে হয়তো বুয়েটে বা সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটায় ভর্তি হতে পারবেই। কিন্তু তাকে কেন ঢাকায় কোচিং সেন্টারে পড়তে আসতে হলো? এর জবাব কে দেবেন? নিশ্চয়ই শিক্ষামন্ত্রী দেবেন কিংবা টেকনিক্যাল প্রশ্নে জবাব দেবেন মন্ত্রণালয়ের এক্সপার্টরা। কিন্তু এই সহজ প্রশ্নটি কি করা যেতে পারে সবাইকে যে, শিক্ষার উচ্চতর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কেন ঢাকাকেন্দ্রিক? বিভাগীয় ও জেলা স্তরেও প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানবিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো, ঢাকার বাইরের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে সন্দেহের কারণ কী? এসব সন্দেহের কারণেই যে ঢাকার সবচেয়ে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিযুদ্ধের সূচনা এবং শিক্ষার সেই গলিপথের মোড়ে মোড়ে কোচিং সেন্টারের মনমাতানো সাইনবোর্ড গড়ে ওঠার কারণও, তা সরকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তাদের পক্ষ থেকে জানাতে হবে। সেই সাথে আমরা জানতে চাই, ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সমান নয় কেন? চাকরিবাজারে কেন কেবল বুয়েট শ্রেষ্ঠ, কেন এমআইএসটি, আহসানউল্লাহ, বেসরকারি নর্থ-সাউথের প্রতি চোখ ভর্তিচ্ছুদের?
৩.
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পাঁচমিশালি। জাতীয় ভাষা বাংলা মিডিয়াম, আবার তারই রয়েছে শাখা ইংরেজি মিডিয়াম। ইংরেজি মাধ্যম হিসেবে কিন্ডারগার্টেন এবং ও-লেভেল, এ-লেভেল শিক্ষা যা আন্তর্জাতিক নামের ইংরেজি ভাষায় চলছে। আরেকটি হচ্ছে আরবি-ভাষাকেন্দ্রিক মাদরাসা শিক্ষা। এর মর্যাদা কুরআনিক ভাষা হিসেবে। বলা হচ্ছে, ওই সব মাদরাসায় সরকারের শিক্ষা কারিকুলামও পড়ানো হয়। ফলে তারাও আর পিছিয়ে নেই জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম থেকে। বাংলাভাষিক একটি দেশে মাত্র তিন প্রকার শিক্ষা ধারা চালু রয়েছে। কিছু পণ্ডিত লোক জানাচ্ছেন, আমাদের সমাজ পুঁজিবাদী না হলেও, পুঁজির মালিক না হলেও, অবিকশিত পুঁজির ধাক্কায় তথাকথিত পুঁজির চাপের মধ্যে আছে। যারা এ-ধারার সমর্থক তাদের সন্তানরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে। তারা বলেন, বাবা-মা তার সন্তানের জন্য ইংরেজি মাধ্যম কিনতে সমর্থ বিধায় তারা ওই শিক্ষা নিচ্ছে। যারা দরিদ্রও নয়, আবার চিহ্নিত ধনীও নন, তাদের শিশুসন্তানরা পড়েন ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যমের মিশ্রণে। এরা গড়ে উঠছে দল-কচড়া স্বভাব নিয়ে। আর তৃতীয়পক্ষ, যারা ধন ও মানে গরিব, তাদের সন্তানদের জায়গা হয় মাদরাসায়। কয়েক দিন আগে রিকশায় যেতে যেতে একটি সাইনবোর্ড চোখে পড়ল। সেই সাইনবোর্ডে মাদরাসার নামের পর লেখা ইন্টারন্যাশনাল শব্দটি। গ্রিন হ্যারাল্ড বা হলিক্রস স্কুলগুলো ইন্টান্যাশনাল মার্যাদার, কিছু এ-রকম স্কুলের নামের সাথে ইন্টারন্যাশনাল শব্দযুক্ত আছে। মাদরাসা নির্মাতারাও সেই ধারাটি লক্ষ করে, মাদরাসাকে ইন্টারন্যাশনাল করে তুলেছে। আসলে ইংরেজি যদি বিদেশী মাধ্যম হয়, বিদেশী ভাষার শিক্ষা বলে তাহলে আরবিভাষিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদরাসায়ও তো বিদেশী ভাষায় পড়ানো হয়। আরবি তো আর আমাদের মাতৃভাষা নয়। তারপরও আরবি নামের পাশে ইন্টারন্যাশনাল শব্দ দেখে আমারও মনে প্রশ্ন জেগেছে। আরবির সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল কেমন বেখাপ্পা লাগছে। ইন্টারন্যাশনালের কোনো আরবি শব্দ নেই, তা তো নয়। আমি জানি ওই শব্দটি ইংরেজি আর ওই শব্দের আরবিতে কী শব্দ আছে, তা আমার জানা নেই। কিন্তু অবশ্যই আছে। তারা সেই শব্দটি ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু তাতে তাদের পারপাস সার্ভ হতো না। কারণ অধিকাংশ মানুষই সেই আরবি শব্দটি সম্পর্কে জানেন না। ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা নির্মাতারা ব্যবসার মূল্য হিসেবে ওই শব্দটি প্রয়োগ করেছেন বলে আমার বিশ্বাস ও ধারণা।
৪.
এই তিন ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শিক্ষার্থীরা নেমেছেন ভর্তিযুদ্ধে। যেহেতু এই তিন রকম প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদানের মান একরকম সিলেবাস হলেও (সেটি তিন রকমই) শিক্ষাপ্রদানের কাজে নিয়োজিত শিক্ষকদের মান এক-মানের নয়, তাই মফস্বল এলাকার সন্তানরা ঢাকায় ছুটে আসে কোচিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতর করে তুলতে। কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থা এখানেই। যারা ভর্তি কোচিং সেন্টারের ব্যয় সঙ্কুলান করতে পারেন অর্থাৎ কোচিং কিনতে পারেন, তাদের সন্তানরা কোথাও-না-কোথাও উচ্চতর ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। আবার অনেকেই পারেন না। স্কুল-কলেজে ওই সব কিশোররা যা শেখে কোচিংয়ে এসে, তার চেয়ে ভালো কিছু অবশ্যই শিখতে পারেনি তার কলেজ শিক্ষায়। সেই ঘাটতি পূরণেই তারা কোচিং সেন্টারে হামলে পড়ে। কারণ স্কুল ও কলেজে শিক্ষা প্রদানের কায়দা-কৌশল প্রচলিত ধারার। যারা শিক্ষাদান করেন তাদের প্রজ্ঞার অভাব আছে বা নেই, তারও চেয়ে বেশি তারা প্রশিক্ষিত হতে পারেন না নিয়মিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়তো কিছু শিক্ষকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। সেই প্রশিক্ষণের মানও যে চাহিদামাফিক এমন দাবি কেউ করবে না। কিন্তু তাতে করে কারিকুলামে নিহিত জ্ঞান অর্জন সম্ভব হয় না। এভাবে অ-প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের কারণেও মফস্বলের শিক্ষক ও ছাত্ররা পিছিয়ে পড়েন। এর জন্য দায়ী কে? আর এই তিন রকম শিক্ষার ব্যবস্থা কেন? কোন যুক্তিতে? যারা শিক্ষা কিনতে পারছে না, সেই গরিবদের জন্য সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে আরবি মাধ্যমের মাদরাসা? গরিব অভিভাবকদের উদ্দেশে এটাই বলা যে, তোমাদের শিশুরাও তো শিক্ষা পাচ্ছে? এই সান্ত্বনা পুরস্কারই আমাদের জন্য কাল হয়ে উঠেছে। এই বৈষম্যকরণের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মনে ও মননে যে মানসিক স্বাস্থ্যহানির কারণ ঘটছে যা একজন তরুণকে নানাভাবে বিতর্কিত করছে, সেটি কি আমরা লক্ষ করছি? বোধ করি এভাবেই আমাদের সমাজে গজিয়ে উঠেছে তিন ধরনের সামাজিক মানুষ। তিন রকম সাংস্কৃতিক চেহারা আমরা লক্ষ করছি। পোশাকের ক্ষেত্রেও তিন রকমের বৈচিত্র্যই আমাদের চিনিয়ে দিচ্ছে ওই কিশোর-যুবকদের। এই শিক্ষার তিনটি শাখা আমাদের মানবিক ও নৈতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে। একজন আরেকজনকে ভিন্ন চোখে দেখতে শেখাচ্ছে। যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনো করে শিক্ষিত হচ্ছে তারা বাংলা ও আরবি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মনে-প্রাণে সমকক্ষ ভাবতে পারছে না। শিক্ষার কোয়ালিটি নিয়ে তারা ওই দুই শ্রেণীকে পাত্তা দিচ্ছে না। কিংবা তাদের মনে সৃষ্টি হচ্ছে ঘৃণার বোধ। এই বোধ আমাদের সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে, সেটি কি সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় একবারও ভেবে দেখেনি? তারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন লেজেগোবরে করে সাজালেন কেন সেই ব্যাখ্যা কি আমরা দাবি করতে পারি? সেই অধিকার কি আমাদের আছে?
৫.
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের চিন্তা হচ্ছে এই যে, সরকারি ও বেসরকারি প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান সমান্তরাল করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণ দিয়ে বোঝালে ভালো হবে। বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীরা কেন বুয়েটকে এক নম্বরে রাখছে? কেন তারা বুয়েটের সমান ভাবছে না চুয়েট বা কুয়েটকে? কেন তারা সরকারি প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্য দিচ্ছে? কেবল কি এ-কারণেই যে, তারা আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যয় মেটাতে পারবে না বলে? নর্থ-সাউথের শিক্ষা কেনার সামর্থ্য নেই তাদের, এ-জন্য? কেন টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে তারা উপযুক্ত মনে করছে না? কারণ একটাই- তাহলো, শিক্ষার মান। বুয়েট বা নর্থ-সাউথের শিক্ষার মানের সাথে তারা পাল্লা দিয়ে পেরে উঠছে না। তাহলে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান সমান করতে পারলে, টাঙ্গাইলের ছেলেটি ভর্তি কোচিং করতে ঢাকায় আসত না। কিংবা দিনাজপুর থেকে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ফেলে ঢাকায় আসত না। এর জন্য কে দায়ী? কারা দায়ী? সরকারকে এটা বলতে হবে, কেন দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় ফেলে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসবে দিনাজপুরের কোনো কিশোর/তরুণ? আমরা মনে করি শিক্ষার মান নির্মাতারা চান ঢাকাকেন্দ্রিক বাণিজ্যপ্রধান প্রতিষ্ঠানের মান উপরে থাকুক। তা নাহলে কোন যুক্তিতে ও কোন কারণে ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা ভর্তির জন্য আসছে? (ঢাকার বুয়েটে কংবা এমআইএসটি বা অন্যান্য সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ব্যর্থ হওয়ার পরই তারা ছুটছে মফস্বলের কোনো সরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে)।
ভর্তিযুদ্ধের অবসান হবে তখনই যখন ওই তিন ধারার শিক্ষা বন্ধ হবে। জাতীয় ভাষায় আন্তর্জাতিক জ্ঞান অনূদিত হয়ে এলে, মানের তফাত হবে না। দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে কেবল ইংরেজি নয় যার যে ভাষা পছন্দ সেই মোতাবেক ভাষা শিখবে- সেটি তার অধিকার। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জব মার্কেটে কাদের চাকরি সুযোগ বেশি, আয় বেশি সেটি বিবেচনা করেই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী সেই ভাষায় শিক্ষা নেবে, সেখানেই ভিড় জমাবে। শিক্ষার মান বাড়াতে হলে শিক্ষকের মান বাড়াতে হবে। সেটি রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে, ওই পথে যাত্রা শুরু করলে, জামালপুরের ছেলেমেয়েরা ঢাকায় আসবে না। কাজটা করতে হবে তৃণমূলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। অর্থাৎ কেবল কারিকুলাম বদলালেই হবে না, শিক্ষার উপকরণ ও শিক্ষকের মান বাড়ানো, কোয়ালিটি শিক্ষাকে গ্রামের মানুষের জন্যও সহজ ও সস্তা দরে বিক্রি করতে হবে। এটাই মনে করতে হবে যে, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে, দেশের শ্রমশক্তির উন্নয়নে সরকারের ওই বিনিয়োগ যথার্থ বলে বিবেচিত হবে। আর এটাই মনে রাখতে অনুরোধ জানাব আমরা; তা হলো, শেষতক সরকারের ওই বিনিয়োগ তো জনগণেরই বিনিয়োগ। কারণ টাকাটা জনগণের, রাষ্ট্রটি জনগণের এবং সরকারও জনগণের। নিজেদের চেতনাকে আবারো ঝালিয়ে নিতে আমরা অনুরোধ জানাই।

Lab Scan