ভরা মৌসুমেও সবজির বাজার চড়া

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। ভরা মৌসুমেও শীতের সবজির দাম কমেনি । এ সপ্তাহে আবারও বেড়েছে খামারের মুরগি ও আলুর দাম। বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। শীতে চাহিদা কম থাকলেও ইলিশ মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া। শুক্রবার যশোরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহ পার হলেও শীতের ভরা এই মৌসুমে এখনও বাজার উত্তপ্ত। গত দু সপ্তাহ আগের টানা ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টির অজুহাত এখনও চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন বৃষ্টির ক্ষতি এখনও পুষিয়ে উঠতে পারেনি চাষিরা। এ কারণে বাজার চড়া। তবে ক্রেতারা বলছেন দু সপ্তাহ আগের বৃষ্টি, এটা ব্যবসায়ীদের অজুহাত ছাড়া কিছুই না।
শুক্রবার যশোরের বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০টাকা, শিম ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটা ৬০ টাকা, পটল কেজি ৫০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, পেঁয়াজের কালি ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা বাঁধাকপি ২৫ টাকা।
এদিকে শুক্রবার বড় বাজারে পুরনো ভাতি পেঁয়াজ খুব একটা দেখা যায়নি। মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে প্রচুর। এ সময় নতুন ওঠা মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম বেশ খানিকটা কম থাকে। কিন্তু এবার পেঁয়াজের বাজার গরম থাকায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের দামও যথেষ্ঠ বেশি। গতকাল শুক্রবার ছোট সাইজের মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৮০ টাকা, মাঝারি সাইজেরটা ৯০ টাকা ও বড় সাইজের পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। বড় বাজার কালীবাড়ী এলাকার আড়তদার নিতাই গৌর ভা-ারের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নিতাই সাহা জানান, নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও নতুন আলু বেশ পুষ্টি হয়ে খাওয়ার মতো হয়েছে। আগামী দু আড়াই মাস এই মুড়িকাটা পেঁয়াজের যোগান বাজারে থাক্েব, এরপরই মূল ভাতি পেঁয়াজ বাজারে উঠে যাবে।
বাজারে ক্রেতা গোলাম মহসিন বলেন, দু সপ্তাহ আগে মাত্র একদিন বৃষ্টি হয়েছে। তাতে সবজির ক্ষতি হওয়ার অজুহাত এখনও চলছে। অথচ ভরা মৌসুমে শীতের সবজির দাম আরও অনেক কম থাকার কথা।
বাজাওে আলুর দাম এ সপ্তাহে আরও বেড়েছে। শুক্রবার পুরনো আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা ও নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা।
শীতকালে নানা অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বাড়ায় খামারিরা এ সপ্তাহে মুরগির দাম আরও এক দফা বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার বড় বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ৩১০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০০ টাকা।
শীতকালে ইলিশের চাহিদা ক্রেতাদের মধ্যে কম থাকলেও বাজারে এর দাম এখনও অনেক বেশি। গতকাল শুক্রবার খুচরা বিক্রেতা এরশাদ আলী ১ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করেছেন ৪২০০ টাকা কেজি দরে, ১ কেজি ১০০/২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ২৮০০ টাকা, ৭০০/৮০০/গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২২০০ টাকা, ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৮০০ টাকা ও ৪০০/৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে ১০০০ টাকা।
তাছাড়া অন্যান্য মাছ যেমন প্রতি কেজি রুই ২৬০ টাকা, প্রতি কেজি কাতল ২০০ টাকা, বাইন মাছ ১৪০০ টাকা, ১ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের সিলভার কার্পের কেজি ১৭০ টাকা ও ৩টায় কেজি তেলাপিয়া মাছের কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বড় বাজার কাঠেরপুলে গরুর গোশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা দরে। মাত্র একজন বিক্রেতা যিনি ৬২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন, তিনিও শুক্রবার রেটবোর্ড টানিয়ে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি শুরু করেছেন। অর্থাৎ শুক্রবার সবকটি দোকানে গরুর গোশ ৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

 

 

Lab Scan