ভবদহ অঞ্চলকে মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ভবদহ অঞ্চলকে মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার দাবি জানিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন কমিটি। রোববার (৯ জুলাই) যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দেন সংগঠনের নেতারা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় দীর্ঘদিন ধরে খোদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ঠিকাদার ও ঘের মালিক সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রে ভবদহ স্লুইস গেট থেকে ৬০ কিলোমিটার নদী হত্যা করা হয়েছে। ফলে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বারোআড়িয়া মোহনা পর্যন্ত যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা জেলাধীন নদী অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার জনপদের চার শতাধিক গ্রাম, হাট বাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, বাড়িঘর, আবাদ ফসল স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হতে চলেছে। এ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে এ অঞ্চলে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। এ জন্য ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং ও ডেল্টা প্ল্যানের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন, চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় নদীর উজানে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে ভৈরব নদের পুনঃসংযোগ এবং নদী হত্যা ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ মে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা অভয়নগর উপজেলার ভবদহ ২১-ভেন্ট স্লুইসগেট থেকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়া এলাকায় চারটি নদীর মোহনা (গ্যারাইল, ভদ্রা, হাবরখালী ও জিরাবুনিয়া) পর্যন্ত পরিদর্শন করেন। তখন মোহনা থেকে যশোর সদর পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদী অববাহিকার জনপদ নিশ্চিত মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কার চিত্র উঠে আসে। পরিদর্শনকালে নদীগুলোর গভীরতা ও প্রশস্ত মাপা হয়। এ সময় দেখা যায় বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়া চারটি নদীর মোহনায় ভাটির সময় ধু ধু চর জেগে ওঠে। অথচ সাত বছর আগে ওই মোহনায় নদীর গভীরতা ছিল প্রায় ২০০ ফুট।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নদীর উজান এবং মোহনা সচল না থাকলে নদীর মৃত্যু হয়। ভবদহ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত নদীর উজানে ভৈরব নদ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় সাগর থেকে আসা পলিতে নদী এবং মোহনা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে জলাবদ্ধতার এলাকা যশোর সদর থেকে বারোআড়িয়া মোহনা পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদী অববাহিকা বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে চার শতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতার হুমকিতে পড়েছে।
এই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ভবদহ পানি নিষ্কাশন কমিটি বর্ষার আগে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে কয়েক দফা স্মারকলিপি দিলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং দিনের পর দিন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ঠিকাদার, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও ঘেরমালিকেরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে জনগণকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা লুটের স্থায়ী ব্যবস্থা করে নিয়েছে। স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন বর্তমান বাস্তবতায় ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ ও আইডব্লিউএম এর সুপারিশ অনুযায়ী অবিলম্বে টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাতে করে মোহনা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার নদী নাব্যতা ফিরে পাবে। প্রশস্ততা ও গভীরতা নিশ্চিত হবে এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হবে। যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার এলাকার জনপদ রক্ষা পাবে।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালি প্রমুখ।

Lab Scan