ভবদহ অঞ্চলকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় ছয় দফা দাবি

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভবদহ অঞ্চলকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম এ কমিটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এরপর সংগ্রাম কমিটির নেতারা জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খানের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে এই ভবদহ অঞ্চল। এই অঞ্চলকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে– মহাবিপর্যয় থেকে ভবদহকে রক্ষা; পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তাবিত প্রকল্প বাতিল; মাঘী পূর্ণিমার আগে বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু ও ডেল্টা প্লান-২১০০-এর সুপারিশ বাস্তবায়ন; আমডাঙ্গা খাল দ্রুত সংস্কার; জনগণের জান-মাল-বসতবাড়ির ক্ষতিপূরণ এবং দুর্নীতিবাজদের বিচার। মানববন্ধন চলাকালে বক্তৃতায় সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ভবদহ জনপদের প্রায় ২০০ গ্রামের প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে ১০ লাখ মানুষ একটি কুচক্রী সিন্ডিকেটের লুটপাট ও লালসার শিকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ঠিকাদার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও ঘের মালিকরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রতি বছর জনগণকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা লুটের স্থায়ী ব্যবস্থা করে নিয়েছে। তাদের কারণে এখানকার মানুষ স্থায়ীভাবে পানির নিচে তলিয়ে যেতে বসেছে।’নেতারা জানান, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯৮ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সরকার আয়োজিত এক কনভেনশনে নীতিগতভাবে পর্যায়ক্রমে বিলগুলোতে টিআরএম প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০২ সালে বিল কেদারিয়ায় এবং পরবর্তী বিল হিসেবে ২০০৬ সালে বিল খুকশিয়ায় টিআরএমের সফলতায় স্রোতের ভরবেগ বৃদ্ধি পায়। দ্রুত নদীগর্ভের পলি কেটে কাট পয়েন্ট থেকে নদী ২৫-৩০ ফুট গভীর ও মোহনা সচল হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত বিল কপালিয়ায় টিআরএম কার্যকর করতে গেলে প্রকাশ্যে দিবালোকে সশস্ত্র আক্রমণে ২০১২ সালে হুইপ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আহত হন, সরকারি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সরকার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে টিআরএম প্রকল্প বাতিল করে দেয়। ফলে ওই চক্র ও সিন্ডিকেট স্থায়ী লুটপাটের সরকারি মদত পেয়ে বসে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ওই প্রকল্প বাতিল করে নতুন প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশ দেয়। এরপর হঠাৎ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ভবদহ গেটে এসে টিআরএম হবে না এবং ওই বিলগুলোকে জলাভূমি হিসাবে ঘোষণা দেন। তিনি ডেল্টা প্লান-২১০০-এর অজুহাত উত্থাপন করেন। উপস্থিত জনগণের মধ্যে আপত্তি উঠলে তিনি তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণও করেন। প্রকৃত সত্য হলো, ভবদহ এলাকা কখনই জলাভূমি বা জলাশয় ছিল না। এমন তথ্য রাষ্ট্রীয় নথিপত্রেও দেখা যায় না। বরং ডেল্টা প্লান-২১০০-এ ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ রয়েছে।’ নেতৃবৃন্দ দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে আপনার জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের মানুষের রাস্তায় উঠে প্রতিবাদ করা ছাড়া কোনও পথ খোলা থাকবে না।’ কালেক্টরেট চত্বরের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালী, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল হামিদ, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য শিবপদ বিশ্বাস, অনিল বিশ্বাস, রাশিদা বেগম, রাজু আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, জিল্লুর রহমান ভিটু, তসলিম-উর-রহমান, হাসিনুর রহমান প্রমুখ।

Lab Scan