বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার : শীর্ষে পৌঁছানো নিয়ে চাপে হুয়াওয়ে

    ২০১৯ সালের মধ্যেই সরবরাহ বিবেচনায় বিশ্বের বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা হওয়ার লক্ষ্য ছিল হুয়াওয়ে টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেডের। কিন্তু গত মে মাসে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং কালো তালিকাভুক্তির কারণে লক্ষ্যে পৌঁছানো নিয়ে চাপে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
    দক্ষিণ চীনের ডংগুয়ানে গতকাল এক ডেভেলপার সম্মেলনে হুয়াওয়ে কনজিউমার বিজনেস গ্রুপের প্রধান রিচার্ড ইয়ু বলেন, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কবলে না পড়লে চলতি বছর তারা ৩০ কোটি ইউনিট স্মার্টফোন সরবরাহে সক্ষম হতেন। এর ফলে চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের মধ্যে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষস্থানে পৌঁছানো সম্ভব ছিল। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করছি পূর্বঘোষিত সময়ে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের আরো কিছুটা সময় লাগবে।
    গতকাল স্মার্টফোন এবং অন্যান্য ডিভাইসের জন্য ‘হারমনি’ নামে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো কারণে নিজেদের ডিভাইসে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার থেকে সরে আসতে হলে খুব একটা সমস্যায় পড়বে না প্রতিষ্ঠানটি।
    রিচার্ড ইয়ু বলেন, হারমনি অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। হুয়াওয়ের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমের বৈশ্বিক নাম হারমিন হলেও চীনে এ অপারেটিং সিস্টেমের নাম হংমেং। চাইলে এখন থেকে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম স্মার্টফোন ডিভাইসে ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু আমরা অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্ম ব্যবহার অব্যাহত রাখতে চাই। ভবিষ্যতে ডিভাইস ব্যবসা নিয়ে নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তবেই আমরা নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমচালিত স্মার্টফোন সরবরাহ করব।
    রিচার্ড ইয়ুর ভাষ্যে, হুয়াওয়ে আজ অনার স্মার্ট স্ক্রিন নামে একটি নতুন পণ্য উন্মোচন করবে, যা হারমনি অপারেটিং সিস্টেমচালিত প্রথম পণ্য হবে।
    বিশ্বের বৃহৎ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম এবং দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ে। বাজারে গ্রাহক চাহিদার আলোকে ডিজাইন এবং প্রযুক্তিসংবলিত স্মার্টফোন সরবরাহের মাধ্যমে দারুণ সাড়া ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি। যে কারণে আইফোনের মতো জনপ্রিয় স্মার্টফোন নির্মাতা অ্যাপলকে পেছনে ফেলে বৈশ্বিক বাজারের দ্বিতীয় বৃহৎ ডিভাইস নির্মাতার তকমাটি দখলে নিতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিভাইস সরবরাহে অ্যাপলকে পেছনে ফেলার পরপরই স্যামসাংকে হটিয়ে বিশ্বের বৃহৎ ফোন নির্মাতার আসনটিও দখলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিককে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এ লক্ষ্য অর্জনের সময়সীমা ধরা হয়েছিল।
    গত মাসে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত সিইএস এশিয়া টেকনোলজি শোতে হুয়াওয়ের কনজিউমার বিজনেস গ্রুপের চিপ স্ট্র্যাটেজি অফিসার শাও ইয়াং জানান, বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে হুয়াওয়ে এ মুহূর্তে প্রতিদিন পাঁঁচ থেকে ছয় লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি করছে।
    গত মে মাসে হুয়াওয়ের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। হুয়াওয়ের পণ্যে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকার অভিযোগে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর পণ্য ক্রয় বন্ধ হয়ে যায় হুয়াওয়ের। নিষেধাজ্ঞা মেনে বেশ কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্যবসায় সম্পর্কও ছিন্ন করে। তবে নিষেধাজ্ঞা ৯০ দিনের জন্য শিথিল করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করে।
    অবশ্য গত জানুয়ারিতে হুয়াওয়ে জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ছাড়াই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের তকমা দখলে নেবে।
    বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে হুয়াওয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ছিল। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে এখন হুয়াওয়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক স্যামসাং ইলেকট্রনিকস কোম্পানি লিমিটেড। তবে গত প্রান্তিকে স্যামসাং এবং অ্যাপল উভয় প্রতিষ্ঠানের স্মার্টফোন বিক্রি কমলেও হুয়াওয়ের ডিভাইস বিক্রি উল্লেখযোগ্য বেড়েছে।
    বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি বছর হুয়াওয়ের স্মার্টফোন বিক্রি এক-চতুর্থাংশ কমে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হলে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির স্মার্টফোন সরবরাহ ৪ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমার আশঙ্কা ছিল। বাস্তবে তেমন কিছু হয়নি।

    ভাগ