বেসরকারি হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় টনক নড়েছে প্রশাসনের : শিগগির অভিযান

বিএম আসাদ ॥ বেসরকারি হাসপাতাল ও কিনিকে অব্যাহতভাবে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে প্রশাসনের টনক নড়েছে। সরকারি নিয়ম অমান্য করে যেসব প্রতিষ্ঠান অপচিকিৎসা ও রোগীদের হয়রানি করছে তাদের বিরুদ্ধে শিগগির অভিযান পরিচালিত হবে। রোববার জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানিয়েছেন, যশোরের বিভিন্ন বেসরকারি হসপিটাল ও কিনিকে চিকিৎসাসেবার নামে চলছে অপচিকিৎসা। যাদের অধিকাংশ রেজিস্ট্রেশন নেই। কিছু লোক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করে হসপিটাল, কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করছেন। যশোর শহরের বহুল আলোচিত বন্ধন হসপিটালসহ জেলা, উপজেলা পর্যায়ে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতালে প্রায়ই রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলার পর অবশেষে প্রশাসনের টনক নড়েছে।
(১৭ নভেম্বর) রোববার যশোর জেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় বেসরকরি হসপিটাল, কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতি প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এসব অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও পুলিশ থাকবেন। উপজেলা পর্যায়ে থাকবেন নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ। এছাড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পুরনো যে সকল বেসরকারি হসপিটাল ও কিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকগণ, রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করেননি, তাদের দ্রুত রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করে যথা নিয়মে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্যে চিঠি দেয়া হবে। আর যে সকল নতুন হসপিটাল, কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবস্থায় চলছে তা বন্ধ রাখা এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্যে চিঠি দেয়া হবে। এ অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি হসপিটাল, কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ করে দেয়ার জন্যে সিভিল সার্জন অফিসের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেসরকারি হসপিটাল, কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে খুব শিগগির ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রেজিস্ট্রিশনবিহীন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে বন্ধ করে দেয়া হবে। মানুষের জীবন নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলা করতে দেয়া হবে না।

ভাগ