বেপরোয়া সবজি বিক্রেতা : পাইকার ও খুচরা বাজারে দামের পার্থক্য দ্বিগুণ

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।।  যশোর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্ব বারীনগর (সাতমাইল) সবজি বাজার। অথচ শহরের বড়বাজারে সবজির দামের ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ। বড়বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের একটা শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। খুচরা বিক্রেতারা বারীনগর বাজার ছাড়াও তাদের দোকানের পাশের আড়ত থেকেও সবজি কিনে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের রশিদ ও দামের তালিকা টানানোর অনিয়মে নিয়মিত তদারকি না হওয়ায় এ ব্যবসায়ীদের ধৃষ্টতা দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে ভোক্তারা অভিযোগ করছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ মে) ছিল যশোর সদরের হৈবতপুর ইউনিয়নের বারীনগর (সাতমাইল) বাজারে হাটবার। সপ্তাহে দুদিন রবিবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজির হাট বসে এখানে। হাটের দিন ব্যাপারীরা ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক সবজি কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম,সিলেট,খুলনা,পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন। গতকালও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
খুব সকাল থেকেই শুরু হলো বেচাকেনা। বারীনগর বাজারে হৈবতপুর ছাড়াও পাশর্^বর্তী কাশিমপুর ইউনিয়ন, চুড়ামনকাটি, চৌগাছা, বারোবাজার, কালীগঞ্জ, ঝিকরগাছা ও আশপাশের আরও অনেক জায়গা থেকে চাষিরা তাদের ক্ষেতের সবজি বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। সরেজমিনে দেখা গেল চাষিরা তাদের পণ্যের বিক্রি দাম পেয়ে খুশি। কথা হয় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের চাষি বিশারত আলীর সাথে। তিনি এদিন তার ক্ষেতের ধুন্দল প্রতি কেজি ২৬ টাকা ও কুমড়া ২০ টাকায় বিক্রি করে খুশি হয়েছেন। হৈবতপুর ইউনিয়নের সিদ্দিক হোসেন পটল ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করে সন্তষ্ট।
চাষিরা জানান, এই খরায় পানির অভাবে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ক্ষেতে সেচ দিয়েও ভালো ফলন হওয়ায় তারা তাদের সবজি বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান হচ্ছেন। তারা জানান, বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাপারীরা ছাড়াও যশোর শহরের অনেক খুচরা ব্যবসায়ী এই বাজার থেকে সবজি কিনে নিয়ে যান। এদিন বারীনগর হাটে ঝিঙের কেজি বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, করোলা ৪৫ টাকা লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। বারীনগরে সবজির বিক্রি করে চাষিরা সন্তুষ্ট হলেও শহরের বড়বাজারের খুচরা বিক্রেতারা দ্বিগুণ লাভ করতে না পারলে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বলে ভোক্তারা অভিযোগ করছেন।
যশোর শহরের বড়বাজারে আড়তেও বারীনগর বাজারের মত প্্রায় একই দামে সবজি বিক্রি হলেও খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতাদের রেহাই দিচ্ছেন না। প্রায় প্রতিটি পণ্যে তারা ক্রয় মূল্য থেকে ক্রেতাদের কাছ থেকে দিগুণ দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন। এদিন বারীনগর বাজার থেকে ঘুরে বড়বাজারের মিতালী ভা-ারে গিয়ে দেখা যায়, আড়তদার মো. খোকন বিক্রেতাদের কাছে পাইকারি মূল্যে উচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, করোলা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, কচুরলতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ধুন্দল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
অথচ একই বড়বাজারের খুচরা বিক্রেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার কাকঁরোল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, করোলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা ও লাউ প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন।
এদিন বাজার করতে আসা ইকরাম আলী বিক্রেতাদের স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে বলেন, সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলো মুদি দোকান ও অন্যান্য পাইকারি দোকানে অভিযান চালালেও খুচরা সবজি বিক্রেতাদের দিকে নজর দিচ্ছে না। এ কারণে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে গতকাল যশোরের সিনিয়র বিপণন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম নজরদারি থেকে খুচরা সবজি বিক্রেতারা বাদ পড়ে যাওয়ায় এমনটা হয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, খুব শিগগির তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন,একজন বিক্রেতা তার ক্রয় মূল্যে সবরকম খরচসহ প্রতি কেজিতে পচনশীল দ্রব্যে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত লাভ রেখে বিক্রি করতে পারবে। এর বাইরে বেশি দাম নিতে পারবে না।

Lab Scan