বেনাপোল ও কেশবপুরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বেনাপোল ও কেশবপুরের বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের বর্বারোচিত হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি।  সোমবার প্রেস ক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, বতর্মান ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকার রাজনৈতিক সংকটে আবর্তিত হয়েছে। যে কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা  দেশব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। সন্ত্রাসীরা একের এক পর অতর্কিত হামলা চালিয়ে অসংখ্য বিএনপি নেতা-কর্মীকে গুরুতর জখম করছে। দেশব্যাপী চালানো তাদের সেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় গেল ১৬ আগস্ট বেনাপোলে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দোয়া মাহফিলে অপু,রাসেল,রুবেলের নেতৃত্বাধীন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র সহকারে হামলা চালায়। হামলায় বিএনপি নেতা,শার্শা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মিলন, বেনাপোল পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আক্তার, মাকসুদুর রহমান রিন্টু,মিজানুর রহমান, আব্দুল আলিম, হাবিব, যুবদল নেতা মো. মুছা, ছাত্রদল নেতা আরিফুজ্জামান,সাদিকুর রহমান,সুমনসহ দলের ১১ জন নেতাকর্মীকে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়া গেল ১২ আগস্ট শার্শার কায়বায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলামসহ ৫ জনকে জখম করে। সর্বশেষ রোববার রাতে কেশবপুর পৌর সদরে গণি শেখের ছেলে জামাল,আকবার আলীর ছেলে মাহবুব, আবু সাঈদের ছেলে আবু তাহের,জাহাঙ্গীগের ছেলে সৌরভ, মুকুলের ছেলে মাসুদ, আলতাফের ছেলে সোহান, আজিজের ছেলে একরামুল, আব্দুল হারিমের ছেলে রাব্বি,আজগর আলীর ছেলে রাসেলের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী, ফারুখ, ইদ্রিস, রাকিব,সিনবাদ, মনির, এনামুল, বাপ্পি, সুমন, সোহেল, সোহাগসহ ৭০ থেকে ৮০ জন সন্ত্রাসী ৫০ থেকে ৬০ মোটর সাইকেলে দেশীয় অস্ত্রসহকারে মহড়া দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা কেশবপুর পৌর সদদেরর বিভিন্ন স্থানে বিএনপিসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী দেখা মাত্রই তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। সন্ত্রাসীরা মারপিট করে পৌর স্বেচ্ছাসেক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির পলাশের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা সাইফুল ইসলামকে কেশবপুর বাজারের মধ্যে ছুরকাঘাত করে শ্মশান ঘাটে নিয়ে ব্যাপক মারপিট করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পৌর বিএনপি নেতা প্রভাষক রফিকুল ইসলাম,মো. বুলবুল বুলি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহজাহান আলী, থানা যুবদল নেতা আবুল কালাম ,পৌর যুবদল নেতা মো. আলম, থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমদাদসহ দলের ১১ জন নেতাকর্মীকে গুরুতর জখম করেছে। যাদের অধিকাংশই খুলনায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় কেশবপুর পৌর সদর জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ব্যবসীয়া ভিত সন্ত্রস্ত হয়ে দোকান ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সোমবার সকাল থেকে সন্ত্রাসীরা আবার সংঘবদ্ধ হয়ে মহড়া অব্যাহত রেখেছে।
এ সয়ম বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সীমাহীন দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতির ফলে দেশের সাধারণ জনগণ আজ কষ্টে জর্জরিত। তারা মুক্তির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। জনগণের দল বিএনপি তাদের পাশে থেকে সেই কষ্ট লাঘবের জন্য এর প্রতিবাদ করে আসছে। জনগণের যৌক্তিক দাবিকে আওয়ামী লীগ নস্যাৎ করতে দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। কোন সভ্য দেশের চিত্র এবং কোন গণতান্ত্রিক সরকারের চরিত্র এমন হতে পারে না। এভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বিএনপিকে জনগণ থেকে দূরে রাখা যাবে না। তাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ঠেকানো যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাস নিজ নিজ এলাকায় আওয়ামী সন্ত্রাসী হামলার চিত্র তুলে ধরেন। এ সয়ম উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, দলের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি,বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর সাদিক, আব্দুস সালাম আজাদ, আলহাজ্ব মিজানুর রহমান খাঁন, মারুফুল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিছুর রহমান মুকুল প্রমুখ।

Lab Scan