বেনাপোলের হাফিজুর ঢাকায় গ্রেফতার পুলিশ বলেছে ‘অস্ত্র চোরাকারবারি’

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ অস্ত্র চোরাকারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর থেকে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল এলাকার এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার রাতে মো. হাফিজুর রহমান নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি রিভলবার এবং একটি শ্যুটারগান উদ্ধার করা হয়।  পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন ৯ দিন আগে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হাফিজুরকে বেনাপোলের পর্যটন মোটেলে ডেকে নেয়া হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। গতকাল টেলিভিশনের খবর থেকে তারা জানতে পারেন হাফিজুরের আটকের খবর। হাফিজুরের বাড়ি শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী পুটখালী গ্রামে।
জানা যায়, গোয়েন্দা পুলিশে ঢাকা উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার মশিউর রহমান সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “হাফিজুর রহমান তার সহযোগী মো. হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও জিলুরের মাধ্যমে বেনাপোল দিয়ে চোরাই পথে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি আনত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।” সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হাফিজুর রহমান এর আগে গরু ও মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিলেন। মাস সাতেক আগে তিনি অস্ত্রের কারবারে নামেন। ভারতের তৈরি অন্তত ২০টি অস্ত্র তিনি এর মধ্যে বাংলাদেশে এনে বিক্রি করেছেন। একজনের ‘চাহিদা অনুযায়ী’ রোববারের চালানটি তিনি দেশে আনেন।
উপ কমিশনার মশিউর বলেন, এই চক্রটি বিহার থেকে কলকাতার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র ও গুলি এনে গোপন স্থানে রাখে। পরে বাংলাদেশি অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সাথে দর কষাকষি করে। “দর চূড়ান্ত হলে তারা কলকতার উত্তর চব্বিশ পরগনার আংরাইল সীমান্তবর্তী গ্রাম এবং বাংলাদেশের বেনাপোলে পুটখালী গ্রামের নদীর তীরে গোসল করার কৌশলে অস্ত্রের চালান নিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। পরে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়।” এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, চক্রটিকে দীর্ঘদিন অনুসরণ করার পর রোববার রাত ১০টার পর মিরপুর মডেল থানাধীন কোরিয়া কারিগরী প্রশিণ কেন্দ্রের সামনে থেকে হাফিজকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছে চারটি অস্ত্রের সঙ্গে ১৭ রাউন্ড গুলিও পাওয়া যায়। হাফিজ প্রতিটি অস্ত্র মোটামুটি ৩০ হাজার টাকায় কিনে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করত জানিয়ে উপ কমিশনার মশিউর বলেন, “তার সাথে আরও কয়েকজন আছে, তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।” অস্ত্রসহ গ্রেফতারের ঘটনায় হাফিজের বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এদিকে লোকসমাজের নাভারণ সংবাদদাতা জানান, হাফিজুর রহমানের বড়ভাই পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, তার ছোট ভাই হাফিজুর রহমানকে গত ২৮ অক্টোবর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মোবাইল ফোনে ডেকে বেনাপোল পর্যটন মোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ডিবি পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার এক ঘণ্টা পর থেকে হাফিজুরের ব্যবহৃত ০১৭৭৫-৬০০৯০০ নম্বরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি জানান, ফোন বন্ধ থাকায় পরিবার ও স্বজনরা শংকিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক অনেক স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানাকে জানানোর জন্য পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার থানার ডিউটি অফিসার আলমগীরের কাছে জিডি করতে যান। কিন্তু পুলিশ জিডি না নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় খোঁজ নিতে বলে। দীর্ঘ ৮ দিন অনেক খোঁজাখুঁজির পর হাফিজুরের কোন সন্ধান মেলেনি। তিনি আরো জানান, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নিয়ে যাওয়ার ৯ দিনের মাথায় মঙ্গলবার হঠাৎ টিভি চ্যানেলের সংবাদে দেখতে পাই (৫ অক্টোবর) চারটি অস্ত্র ও ১৭ রাউন্ড গুলিসহ ডিবি পুলিশ হাফিজুরকে ঢাকার মিরপুর থেকে আটক করেছে। পরিবারের অভিযোগ, হাফিজুর সাধারণ একজন গরু ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ নেই। বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ৯দিন আটকে রেখে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, হাফিজুর আটকের ঘটনায় এলাকার কিছু মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন খান কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ’যেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরেছে সেহেতু এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। যশোর ডিবি পুলিশের ওসির ০১৭১৩৩৭৪১৭১ নম্বর মুঠোফোনে জানতে চাইলে বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। তবে তিনি বলেন, ’যেহেতু সে ঢাকায় আটক হয়েছে সেহেতু আমরা কিছু বলতে পারবো না।

ভাগ