বিদেশগামীদের জন্য কিছু করতে হবে

0

সোনার হরিণ নয়, একটু সুখ স্বচ্ছলতা ছোঁয়ার আশায় দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেকার যুবকরা বিদেশে যায়। সেখানে রাতদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠায়। সেই টাকায় সরকারের রিজার্ভ ফান্ড ভরে ওঠে। চলমান করোনাকালেও তাই রিজার্ভের ঘাটতি হয়নি। সরকার এ নিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প বলছে জোর গলায়। কিন্তু বিদেশগামী ও প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখছে না বলেই অভিযোগ উঠছে রবিবার। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণায় ও দূতাবাসের অবহেলার বহু অভিযোগ প্রায়ই আসছে সংবাদের মাধ্যমে। বিষয়টি সরকারের বিশেষ দৃষ্টিতে দেখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী প্রবাসীদের প্রধান সমস্যা প্রেরণকারীদের প্রতারণা। রিক্রট এজেন্সি নামে কিছু প্রতারকের কারণে তাদের নিঃস্ব হওয়া থেকে শুরু করে সাগর, জঙ্গল, পর্বত ও মরুভূমিতে প্রাণ দিতে হয়। অবৈধ ও জালজালিয়াতির অভিযোগে কারাবাস ভোগ করতে হয়। জীবন বাঁচাতে অর্ধাহার-অনাহারে পালিয়ে বেড়াতে হয়। জমি বেচা লাখো টাকা খরচ করে বিদেশগামী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সাথে এমন প্রতারণা কাম্য নয়। একথা সবাই বলে এবং সরকারও স্বীকার করে যে প্রবাসীরা দেশের বৈদেশিক আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশের জোগান দেয়। প্রতারণার হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে সরকারকেই তাই উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিদেশ থেকে আসা কাগজপত্র পরীক্ষা করতে আজ দফতরগুলোকে নিরন্তর কাজ করতে হবে। শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে যাতে একজন শ্রমিককে বিদেশ যেতে না হয়, সে জন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে দ্রুত সহজ শর্তে ঋণ। ঋণদান নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা জানি, প্রতারণার নানা কৌশল আবিষ্কার করছে প্রতারক চক্র। দরিদ্র মানুষগুলোকে লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলছে তারা। প্রতারণার শিকার হয়ে সবকিছু হারিয়ে পথে বসেছে অনেক পরিবার। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে তিনি বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা ঠেকাতে ব্যাপক প্রচার চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করবো, সংশ্লিষ্ট সবাই সে নির্দেশনা কার্যকর করতে সচেষ্ট থাকবেন। সবারই লক্ষ্য থাকবে, বিদেশগামী ও প্রবাসীদের কল্যাণে এক বাড়তি ভূমিকা রাখা।

Lab Scan