বিতর্কিত ভিডিও চিত্র ॥ যশোরে ২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিরুজ্জামান ও অভয়নগরের দামুখালী পুলিশ ক্যাম্পের এসআই ইকবাল মাহমুদের ইয়াবা সেবনের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এ বিষয়টি তদন্ত করছেন। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে কর্তৃপ। এদিকে অভিযুক্ত কোতয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিরুজ্জামানকে গত রোববার কোজ করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত অভয়নগরের দামুখালী পুলিশ ক্যাম্পের এসআই ইকবাল হোসেন ছুটিতে রয়েছেন। তাকে তলব করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এসআই আমিরুজ্জামান ও এসআই ইকবাল মাহমুদের একটি বিতর্কিত ভিডিও চিত্র বিভিন্ন পত্রপত্রিকার অনলাইন ভার্সনে এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় ছবিসহ এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডস্থ কবরস্থানের উপশহর অংশের (ঢাকা রোড সংলগ্ন) উত্তর পাশের জনৈক পিয়ালের গাড়ি সার্ভিসিং গ্যারেজের ভেতর বসে রাতের বেলায় আসর বসিয়ে থাকেন। তাসের পাশাপাশি সেখানে ইয়াবা সেবনও করা হয়। ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের এই ভিডিও চিত্রে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে তাদের সাথে খালি গায়ে বসে তাস খেলতে দেখা যায়। তাস খেলার সময় এসআই আমিরুজ্জামানের মুখে নল অথবা সিগারেট জাতীয় কোন কিছু মুখে দেখা যায় ভিডিও চিত্রে। যা থেকে তাকে ধোঁয়া ছাড়তে দেখা যায়। এসআই ইকবাল মাহমুদের মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে দেখা যায় ভিডিও চিত্রে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়ায় ভিডিও চিত্র থেকে সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয়, ‘ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন’। কিন্তু ভিডিও চিত্রে তাদেরকে ইয়াবা সেবনের কোন দৃশ্য চোখে পড়েনি।
এদিকে অভিযোগ ওঠায় গত রোববার বিকেলে কোতয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিরুজ্জামানকে কোজ করেছে কর্তৃপ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি দৈনিক লোকসমাজকে জানান, দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে কর্তৃপ। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসআই ইকবাল মাহমুদ ছুটিতে আছেন। তাকে তলব করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে অভয়নগর থানা পুলিশের ওসি তাজুল ইসলাম দৈনিক লোকসমাজকে বলেন, এসআই ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে কর্তৃপ কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কি-না তা তার জানা নেই। তার দফতরে এ ধরনের কোন কাগজপত্র আসেনি। অপরদিকে ঘটনাস্থল ঘোপ বাবতলাতলা বলা হলেও সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, পিয়ালের গাড়ি সার্ভিসিং গ্যারেজটি আসলে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডস্থ কবরস্থানের উপশহর অংশের (ঢাকা রোড সংলগ্ন) উত্তর পাশে অবস্থিত। গ্যারেজটি বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে কাউকে দেখাও যায়নি। আশেপাশের ব্যবসায়ীরাও পিয়ালের গ্যারেজ বন্ধের বিষয়ে কোন কিছু বলতে পারেননি। উল্লেখ্য, এসআই ইকবাল মাহমুদ এর আগে কোতয়ালি থানায় কর্মরত ছিলেন।

ভাগ