বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতি থেকে বাদ মানেকা, বরুণ ও স্বামী, হঠাৎ মিঠুনের উত্থান

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিজেপির রাজনৈতিক বিদ্বেষের কথা সবাই জানে। এবার বিজেপির অন্দরের গান্ধী পরিবারের সাথেও বিরোধ শুরু হয়েছে দলটির। বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটি জাতীয় কর্মসমিতি থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে মানেকা ও বরুণ গান্ধীকে। ছেঁটে ফেলা হয়েছে আর এক বিজেপি নেতা তথা রাজ্যসভার এমপি সুব্রহ্মণ্যম স্বামীকেও। কার্যত সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ উত্থান হয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর। তিনি বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটি জাতীয় কর্মসমিতিতে স্থান পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
ঘটনাক্রমে বরুণ গান্ধী উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষক হত্যা নিয়ে চলা বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে সমর্থন করে লাগাতারভাবে বিজেপি ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি তার কাজিন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সুরেই যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। একটি ভিডিও প্রকাশ করে বরুণ বলেছেন, কৃষকদের হত্যা করে আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। যেভাবে লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের বিক্ষোভ ঠেকাতে নৃশংস পন্থা নেয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন, ওই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। আর ঠিক এ দিনই দল জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে এ কর্মসমিতি থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে বরুণ ও মানেকা গান্ধীকে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর থেকেই বিজেপির অন্দরের গান্ধী পরিবারের সাথে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক মোটেই ভালো নয়। মানেকা গান্ধীকে আগেই মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। বরুণ গান্ধীর পর বিজেপিতে যোগ দেয়া অনেকেই কেন্দ্রে মন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু, বরুণ গান্ধীকে দল অথবা সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেই রাখা হয়নি। এবার আরো একধাপ এগিয়ে তাদের দু’জনকেই সরিয়ে দেয়া হলো বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতি থেকে। সুতরাং এবার বরুণ ও মানেকা গান্ধীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে জোর জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে নতুন কর্মসমিতিতে স্থান হয়নি বিদ্রোহী নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীরও। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বিজেপির রাজ্যসভার এমপি হওয়া সত্ত্বেও নিরলসভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে প্রায়শই মোদি সরকারের সমালোচনা করেন। পূর্ব লাদাখে চীনের সেনার অনুপ্রবেশ নিয়ে সব থেকে সরব ছিলেন তিনি। লাগাতার বলেছেন যে চীন যে ভারতের মাটিতে ঢুকেছে সেটা মোদি সরকার ধামাচাপা দিচ্ছে কেন? একইভাবে করোনা মোকাবেলায় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে নীতীন গাদকারিকে দায়িত্ব দেয়ার কথা জানিয়েও শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। মোদি সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে তিনি চরম সমালোচনা করেছেন। ভারতের অর্থমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করেছেন বহুবার। বস্তুত, সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর লাগাতার মোদি সরকারবিরোধী আক্রমণে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। এবার কর্মসমিতির তালিকা থেকে তাকে বাদ দিয়ে তার সমালোচনার জবাব দেয়া হলো বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন কর্মসমিতির সদস্য হয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া থেকে স্মৃতি ইরানি, অনুরাগ ঠাকুর থেকে ভূপেন্দ্র যাদব। মোট ৮০ জনের কর্মসমিতির বৈঠক সম্ভবত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে।
সূত্র : বর্তমান

Lab Scan