বিএনপি অফিস ভাঙচুর করে সরকার দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিয়েছে তুহিন

0

 

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা ॥ শাসকদলের ক্যাডার বাহিনী বিএনপি অফিস ভাঙচুর করে জনসমর্থনহারা ফ্যাসিবাদী সরকার দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি শান্তিপূর্ণ গণমুখি কর্মসূচিতে জনসমর্থনহারা ফ্যাসিবাদী সরকারের ক্যাডার বাহিনীর হামলা, দৌলতপুর থানা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও তছনছের ঘটনায় নেপথ্যের ইন্ধনদাতা এসআই কামরুজ্জামানের অপসারণ, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ ক্যাডারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি কার্যালয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী কর্তৃক দৌলতপুর থানা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর এবং নেপথ্যের ইন্ধনদাতা থানার সেকেন্ড অফিসার কামরুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত প্রেসব্রিফিং এ তিনি এ দাবি জানান। প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গত ২২ আগস্ট থেকে সারাদেশে থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক জ¦ালানি তেল, পরিবহন ভাড়াসহ সকল দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নূরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার দৌলতপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে বিএল কলেজ রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালনের প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়। বাধাহীনভাবে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সহায়তা চেয়ে থানা বিএনপি নেতারা পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেন এবং সার্বিক সহায়তা চান। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চললেও বুধবার সকাল থেকে পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে। বিএল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ ও স্থানীয় যুবলীগের কতিপয় নেতাকর্মী বিভিন্ন ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। তারা দফায় দফায় মহড়া দিতে থাকে এবং হামলা চালিয়ে বিএনপির কর্মসূচি পন্ড করে দেয়া হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে।
তুহিন আরো উল্লেখ করেন, ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরে পুলিশ প্রশাসন তাদেরকে কোন প্রকার বাধাদান কিংবা নিবৃত করা চেষ্টা করেনি। বরং বিএল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে দৌলতপুর থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার কামরুজ্জামান নিজে উপস্থিত থেকে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলা করতে উস্কানি দেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত)’র ভূমিকাও ছিল তাদের পক্ষে। বিএনপির কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী ক্যাম্পাস ছেড়ে বাইরে আসতে সাহস পায়নি। বিএনপি নেতৃবৃন্দ সমাবেশ শেষ করে সমাবেশস্থল ত্যাগ করা মাত্র শতাধিক সশস্ত্র ছাত্রলীগ ক্যাডার বিএল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপি বিরোধী মিছিল ও উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় স্থাপিত সমাবেশ মঞ্চ ও মাইক ভাংচুর করে। এরপর দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে নির্বিচারে চেয়ার, টেবিল, অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙ্গে তছনছ করে। লাঠিসোটা, রড ও রামদা নিয়ে হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের ভাংচুর, চিৎকার ও গালিগালাজে সমগ্র এলাকায় চরমভাবে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অবৈধ অনির্বাচিত নিশিরাতের সরকার গায়ের জোরে ও দেশি বিদেশি প্রভুদের অনুকম্পায় জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে দীর্ঘ ১৪ বছর রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রাখলেও এখন তারা পায়ের তলার মাটি হারিয়ে ফেলেছে। সকল রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সীমাহীন ও লাগামছাড়া লুটপাটে রাষ্ট্র আজ দেউলিয়া হতে চলেছে। অনেকেই মনে করছেন, শ্রীলংকার চাইতে কঠিন পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। মূল্যস্ফীতির চাপে জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। অফিস আদালত, স্কুল কলেজের সময়সীমা কমিয়ে দিয়ে সরকারই প্রমাণ করেছে, দেশ পরিচালনায় ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা তাদের দিন দিন কমেই যাচ্ছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন এরআগেও বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। পুলিশের পিটুনিতে মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা বাবুল কাজি মারা গেছেন। বিএনপি নেতা ফখরুল আলম একটি চোখ হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছেন। ১৭নং ওয়ার্ড বিএনপির কর্মসূচিতে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ যুবলীগ ক্যাডাররা বিএনপির নারী কর্মীসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। একজন বিএনপি কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। ৩৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এসব ঘটনায় দোষিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি জানান এবং ভবিষতে বিএনপির শান্তিপুর্ণ কর্মসূচিতে বাধা আসলে রাজপথেই মোকাবেলা করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চরণ করেন। প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক আমির এজাজ খান, সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, তারিকুল ইসলাম জহীর, আবু হোসেন বাবু, স ম আব্দুর রহমান, রেহানা ঈসা, কাজী মাহমুদ আলী, সের আলম সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, বদরুল আনাম খান, মাহবুব হাসান পিয়ারু, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, মাসুদ পারভেজ বাবু, শেখ সাদী, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, রুবায়েত হোসেন বাবু, কে এম হুমায়ুন কবির, সাজ্জাত হোসেন তোতন, মুর্শিদুর রহমান লিটন, একরামুল কবীর মিল্টন, শেখ ইমাম হোসেন, শরিফুল আনাম, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, আনসার আলী, তারিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান মিলটন, আলী আক্কাস, শামসুল বারি পান্না, সজীব তালুকদার, ইশতিয়াক হোসেন ইসতি, তাজিম বিশ্বাস, আশরাফুল ইসলাম নুর প্রমুখ।

Lab Scan