বিএডিসি যশোরের বীআমক সহকারী পরিচালকের প্রত্যাহার দাবিতে যশোর চাষিদের সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পেরেশন (বিএডিসি) যশোরের বীজ আপদকালীন মজুদ কর্মসূচির (বীআমক) ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক শেখ আমিনুল ইসলামের পদায়ন আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চাষিরা। সদ্য যোগদানকারী শেখ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে যশোর জোনের ৮৫ টি স্কিমের ম্যানেজারসহ ৮শ ৯ জন চুক্তিবদ্ধ চাষির তার অপসারণ চান। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার তাদের পক্ষ থেকে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মো. মঈন উদ্দীন বিশ্বাস। তাদের মতে একজন প্রোমটি সহকারী পরিচালক হিসেবে কৃষি বিভাগের এমন গুরুত্বপূর্ণপদে তার দায়িত্ব পাওয়ার সম্পূনণ অযৌক্তিক। সংবাদ সম্মেলনে বীআমক যশোর জোনের চুক্তিবদ্ধ চাষিদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে পাঠ করেন মো. মঈন উদ্দীন বিশ্বাস।
এ পদে যে কোনো একজন কৃষিবিদ কর্মকর্তাকে পদায়ন করার দাবিও জানানো হয় চুক্তিবদ্ধ চাষিদের পক্ষ থেকে। এসময় সদ্য যোগদানকারী এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কিছু কুর্নীতির অভিযোগ তোলা হলেও তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চাষিরা। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তিও নেই বলে দাবি করেন, সদ্যযোগদানকারী শেখ আমিনুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১২.০৬.০০০০.২৭২.১৯.২৪৮.২২.২৮৪ নং স্মারকে গত ৩ েেফব্রুয়ারি শেখ আমিনুল ইসলামকে সহকারী পরিচালক (পাটবীজ) যশোর পদের বিপরীতে ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক (বীআমক), বিএডিসি, যশোর পদে পদায়ন করা হয়। সচিব মো. আশরাফুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশেই পদায়ন করা করা হয়। এখবর পেয়ে স্থানীয় বিএডিসি যশোর জোনের ৮৫ টি ¯িীমের ম্যানেজারসহ ৮শ ৯ জন চুক্তিবদ্ধ চাষিরা বীআমক পদে তাকে পদায়ন না করতে ওই অফিস আদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেন। তবে তাদের এ আবেদনের পরও শেখ আমিনুল ইসলামকে বীআমক যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বীজ আপদকালীন মজুদ কর্মসূচির (বীআমক) মত একটা গুরুত্বপূর্ণপদে তাকে পদায়ন করলে বীজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগে বলা হয়, যশোর বীআমক জোনে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন কর্মকর্তার সহযোগিতায় দীর্ঘদিন যাবৎ তারা সুনামের সাথে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করছেন। কিন্তু বীআমক পদে সদ্য পদায়ন পেয়ে যোদানকারী ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক শেখ আমিনুল ইসলাম যশোরসহ অত্র অঞ্চলের সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরে চাকরিকালীন চাষিদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। সহকারী পরিচালক (পাট বীজ) হিসেবে যশোরে দায়িত্বে থাকার সময়েও তার বিরুদ্ধে ভারত থেকে আমদানি পুরাতন পাটবীজ চাষিদের থেকে নেওয়া দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে দেখাতে পারেননি ক্ষুব্ধ চাষিরা। তাদের অভিযোগ অসত্য দাবি করে বীআমক যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সবেমাত্র এই পদে যোগদান করেছি। ফলে এ অল্প সময়ের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ কতটা সত্য তা আপনারাই অনুমান করতে পারছেন।’ তিনি বলেন, পদায়ন পেয়ে সরকারি আদেশ নিয়ে যোগদান করা হয়েছে। ফলে চুক্তিবদ্ধ এসব চাষিরা কী কারণে এমন সংবাদ সম্মেলন করছেন তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।

Lab Scan