বাসায় থেকে অফিসের কাজ, যেসব বিষয় মনে রাখা জরুরি

লোকসমাজ ডেস্ককরোনা সংক্রমণের এই বিপর্যয়ে বেশিরভাগ অফিসের কাজই চলছে বাসা থেকে। অনভ্যস্ত এই কাজের ধারার সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতাও আসছে। বাড়ির কাজ, শিশু সামলে অফিসের কাজ করা বেশ কঠিনই। জেনে নিন প্রয়োজনীয় টিপস।
প্রথমেই একটি রুটিন তৈরি করে নিন। সম্ভব হলে একটু সকালে উঠেই ঘরের কিছু কাজ করে ফেলতে পারেন। প্রতিদিন অফিসে গিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে অফিসে ছুটে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করা হয়। কিন্তু বাসায় থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। সকালে যদি বিছানা ছেড়ে কম্পিউটারের সামনে বসতে আলস্য পায় আপনার, তাহলে সব কাজ গুলিয়ে যেতে পারে। অফিসে গিয়ে যেভাবে কাজ করতেন, ঠিক তেমনটিই করার চেষ্টা করুন। কত ঘন্টায় হাতের কাজ শেষ করবেন, তা নির্ধারণ করুন। সে অনুসারে লাঞ্চ ব্রেক এবং টি ব্রেক নিন।
একটা তালিকা করুন, যাতে লেখা থাকবে প্রতিদিন ও সপ্তাহে কোন কোন কাজ করবেন আপনি। এতে করে কোন কাজ আপনি শেষ করেছেন এবং কোনগুলো বাকি আছে, তা জানা যাবে। যেহেতু বাসায় আছেন, তাই সব সময় বিছানায় বসেই আপনি অফিসের কাজ সারবেন, সেটা খুব একটা ভালো আইডিয়া হবে না। কারণ এতে আপনার আলস্য পেয়ে বসতে পারে, কাজের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই গোছানো একটা কাজের পরিবেশ তৈরি করুন, যাতে আপনার মনোযোগ, কাজের স্পৃহা ও আত্মবিশ্বাস বহাল থাকে। কাজের জন্য এমন একটি চেয়ার বেছে নিতে পারেন, যেটাতে ভালোভাবে হেলান দিয়ে বসে কাজ করা যায়। দীর্ঘক্ষণ বসার কারণে ব্যাক পেইন ঠেকাতে চেয়ারে কুশন বা ছোট বালিশ পেছনে রেখে বসবেন।
বাসায় থাকলেও অফিসের কাজ যেহেতু করতে হবে, তাই সেই চাপ দূর করতে নির্দিষ্ট সময়ে কয়েকবার বিরতি নেওয়া জরুরি। দুই-তিন ঘন্টা কাজ করার পর ১৫ মিনিটের জন্য বিরতি নিন। এসময় ঘরের ভেতর হাঁটুন, শিশু থাকলে তাকে সময় দিন।
দুপুরে স্বাস্থ্যকর লাঞ্চ করা জরুরি। হাতের কাছে পানির বোতল রাখবেন অবশ্যই।
যেহেতু বাসায় কাজ করছেন, তাই শরীরটা ফিট রাখতে হালকা কিছু ব্যায়ামও সেরে নিন। আপনার সুবিধা মতো সময় বের করে ব্যায়াম করুন। দাঁড়িয়ে হাত ও আঙুলের ব্যায়াম করতে পারেন।। কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে হাত ও আঙুল রিলাক্স করার মতো ব্যায়াম করলে শরীরের মাংসপেশিগুলো শিথিল হবে, বাড়তি ক্যালোরিও পুড়বে। ফোনে কথা বলার সময় হাঁটুন।
বাসায় থেকে অফিসে কাজ করা আসলে খুব একটা সহজ না। কারণ পরিবারের মাঝে থেকে কাজে মনোযোগ দেওয়া বেশ কঠিন। তাই পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত জীবন আলাদা রাখার চেষ্টা করা জরুরি। নির্দিষ্ট সময়ে অফিসের কাজ শেষ করুন। এর বেশি চাপ নেওয়া ঠিক না। মূল কথা, পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া ও অফিসের কাজ শেষ করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কাজের ফাঁকে জানালা দিয়ে বাইরের পরিবেশ দেখার চেষ্টা করুন, উদ্বেগ বা করোনা ভীতি যেন আপনাকে পেয়ে না বসে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাসায় থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

ভাগ