বাম গণতান্ত্রিক জোটের আলোচনা : বাংলাদেশের ব্যাংকব্যবস্থা ধনী ও ডাকাতবান্ধব

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ধনিক শ্রেণি ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করছে দাবি করে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, এভাবে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসকাবে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আয়োজনে ‘ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট-উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
আলোচনায় অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ফারমার্স ব্যাংক রা করতে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকগুলোকে দিয়ে শেয়ার কেনানো হয়েছে। এভাবে সব েেত্র কার্পেটের নিচে ময়লা লুকিয়ে ফেলা হচ্ছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসেবে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মোজাফফর আহমেদ বলেন, রেটিং করায় আমরা ব্যাংকগুলোর ভেতরের খবর জানি। ব্যাংকগুলোয় করপোরেট গভর্নেন্স বলতে কিছু নেই, চেয়ারম্যানরাই ব্যাংক পরিচালনা করে।
সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী এক নম্বর হয়েছেন। এর পরদিন দেখলেন পরিস্থিতি খারাপ। সারা বিশ্বে মন্দার ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আমদের অর্থনীতির সব সূচক খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতি ধসে যাওয়ার উপক্রম। যারা এমন পরিস্থিতিতেও অর্থনীতিকে ভালো বলছেন, তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংক যদি তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করে, তাহলে কি তাদের পদ টিকে থাকবে? ব্যাংক লুটপাট, ব্যাংক দখল, পরিবেশ ধ্বংস এখন উন্নয়নের অংশ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাংলাদেশে চরম বৈষম্য চলছে। এটাকে কি উন্নয়ন বলা যায়? গড় আয় বেশি হলেই তো উন্নয়ন হয় না। বাংলাদেশের ব্যাংকব্যবস্থা ধনী ও ডাকাতবান্ধব।

ভাগ