বাঘারপাড়ায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মাদ্রাসায় নিয়োগ

0

 

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরের বাঘারপাড়ায় আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে একটি মাদ্রাসায় চারটি পদে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে গোপনে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে জানালা দরোজা বন্ধ করে চারটি পদের ১৯ জন প্রার্থীর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ম্যানেজিং কমিটি ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে প্রার্থীরা পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরীক্ষার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই তিনি কাজ করছেন। জানা যায়, উপজেলার খলসী নাছরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা নিয়ে যশোর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন নূর জামাল আজাদী নামে একজন অভিভাবক। এর পেক্ষিতে গত ২৭ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির ও নিয়োগ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে ৩০ অক্টোবর শুনানীর তারিখ ধার্য করেন যশোর সহকারী জজ আদালত। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে গোপনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চারটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্যে শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।  এদিন সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এতে সহসুপার পদে ৩ জন, আয়া পদে ৬ জন, নৈশ প্রহরী পদে ৬ জন ও দপ্তরী পদে ৪ জনসহ ১৯ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয় তাদের।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, সকাল ৯ টার দিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গেটে তালা লাগিয়ে তাদের পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষার হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, দোহাকুলা ইউপি চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু মোতালেব তরফদার, প্রতিষ্ঠানের সুপার ও ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা (ডিজির প্রতিনিধি) উপস্থিত ছিলেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হলেও এখনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
মাদ্রাসা সুপার আনিচুর রহমান জানান, ‘আদালতের নির্দেশনা থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। কোনো পরীক্ষা নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে নির্দেশনা পেলে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন খান অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। কোনো পরীক্ষা নেয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশনা পেলে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

 

 

 

Lab Scan