বাঘারপাড়ার এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর বাঘারপাড়ার এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও ভারতে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিজেই। মামলায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে রানা হককে আসামি করা হয়েছে। আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক নিলুফার শিরীন অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় ভুক্তভোগী উল্লেখ করেছেন, তিনি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ২০১৭ সালে তার ব্রেইনের টিউমার চিকিৎসার জন্য পিতার সাথে ভারতের কোলকাতায় যান। সেই সময় তাদের সাথে আসামি রানা হকের পরিচয় হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৮ এপ্রিল তিনি ভেলর যান। সেখানেও আসামি গিয়ে হাজির হন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর আসামি প্রায় তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। ওই শিক্ষার্থী এ সময় তাকে জানান যে, তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জননী। তারপরও তাকে নানাভাবে বিরক্ত করতেন রানা হক। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর বেলা ১১ টার দিকে তিনি কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামি রানা হক ও তার বন্ধু শিপন অপহরণ করে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেন এবং অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তার গলায় চাকু ধরে নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন আসামি রানা হক। পরে অভিষেক লাঠোর নামে একজন ভারতীয় নাগরিক ও পাচারকারীকে মোবাইল ফোনে ভিডিও কল করে তাকে দেখিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন আসামি রানা হক। এরপর অজ্ঞাত স্থানে আটকে থাকার এক পর্যায়ে গত ৩ নভেম্বর সুযোগ বুঝে ওই শিক্ষার্থী কৌশলে জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে কুষ্টিয়ার পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এসময় আসামি রানা হক পালিয়ে যান। পরে বাড়ি এসে শিক্ষার্থী চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

Lab Scan