বাগেরহাট শহরের কেবি বাজারে ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ভিড়

আলী আকবর টুটুল,বাগেরহাট ॥ আসেন বড় ইলিশ, পোন (৮০টি) ২০ হাজার টাকা। ছোট ইলিশ, পোন ১০ হাজার টাকা। রান্নায় তেল লাগবে না, ইলিশের তেলেই ভেজে খাবেন। দাম কমে আছে নিয়ে যান। কাল আর পাবেন না এমনই হাক ডাকে মুখরিত ছিল বাগেরহাটের ইলিশের অবতরণ কেন্দ্র কেবি বাজার। উপচে পড়া ভিড় ছিল ক্রেতাদের। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এমন অবস্থা ছিল বাগেরহাট শহর রক্ষাবাঁধ সংলগ্ন কেবি বাজারে। কেউ মাছ নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ ট্রাকে মাছ উঠাচ্ছেন, কেউ আবার ঝাঁকায় বরফ দিয়ে মাছ মজুদ করছেন।
অন্য দিনের থেকে কয়েকগুণ ভিড় বেশি বাজারে। সাধারণত এই বাজারে প্রতিদিন ফজরের আজান থেকে সকাল ৯টার মধ্যে ইলিশ কেনাবেচা শেষ হয়। বিভিন্ন বাজারের ইলিশের খুচরো বিক্রেতারা এখান থেকে পাইকারি দরে কিনে নিয়ে যায়। পরে ওই সব বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে ক্রেতাদের কাছে। কিন্তু দুপুর আড়াটার সময়ও বাজারে পাইকারি ক্রেতা-বিক্রেতার পাশপাশি খুচরো ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ারমত। কারণ ঘড়িতে রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে নিয়ম অনুযায়ী ৯ অক্টোবর হয়ে যাবে। আর ৯ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশি জলসীমায় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আর এই সময় দেশের অভ্যন্তরে ইলিশ মাছ পরিবহন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তাই শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে ইলিশ কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা। আর ইলিশ বিক্রি করে চিন্তামুক্ত হতে চান জেলেরা।
গত মঙ্গলবার ইলিশ বিক্রি করতে আসা জেলে মনিরুল হক, মুন্সি আমিনুর, নুরুল হাওলাদারসহ কয়েকজন বলেন, কাল থেকে ২২ দিন ইলিশ আহরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। ট্রলারে অনেক মাছ রয়েছে। বিক্রি করে মালিককে ট্রলার বুঝিয়ে দিয়ে বাড়িতে চলে যাব। কম বেশি যা হয় এখনই বিক্রি করতে হবে। তা না হলে নদীতে ঢেলে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
ক্রেতা ফয়সাল হক বলেন, বাজারের থেকে কেভি আড়তে মাছের দাম কিছুটা কম। তবে বাজারে দোকানদারদের কাছ থেকে দেখে শুনে দরদাম করে ইলিশ কেনা যায়। কিন্তু আড়তে অনেকগুলো এক সাথে কিনতে হয়। ভিড় থাকায় দেখে শুনে নেওয়া যায় না। বাগেরহাট উপকূলীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, শেষ মুহূর্তে বাজারে ইলিশের দাম বেশি থাকবে। তারপরও ক্রেতারা কেবি বাজার থেকে ইলিশ কিনতে আগ্রহী। বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কেবি বাজার মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার মঙ্গলবার বলেন, আজ শেষ দিন তাই জেলেরা যেমন চাচ্ছেন মাছ বিক্রি করতে, ক্রেতারাও চাচ্ছেন একটু বেশি পরিমাণে মাছ কিনতে। তাই বাজারে এত বেশি ভিড়।

ভাগ