বাঁকড়ায় বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বালির স্তুপ

0

বাঁকড়া(যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়াঁ ইউনিয়নের দিগদানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে চলছে অবাধে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন। সেই বালি স্তুপ করে রাখা হচ্ছে স্কুলের পেছনে।  স্কুল চলাকালীনও মাঠের মধ্যে দিয়ে বালিবাহী গাড়ি যাতায়াত করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, স্কুলের জমিতে বড় বড় স্তুপ করে বালি রাখা হয়েছে। পাশেই কপোতাক্ষ নদের কোল ঘেঁষে মিজানুরের পুকুর থেকে মেশিন দিয়ে দিনরাত বালি উঠানো হচ্ছে। আর সেই বালি স্কুলের মাঠের মধ্যে দিয়ে ট্রাক, ট্রাক্টর, ট্রলি বোঝাই করে বিক্রি করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, এই বালির ট্রাকের কারণে তাদের খেলার মাঠে বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে গাড়ি চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটার ভয়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে যাচ্ছে না। গাড়ির শব্দে স্কুলে ক্লাস করতেও সমস্যা হচ্ছে।
বালি উত্তোলক দিগদানা গ্রামের মৃত নেছার আলীর ছেলে আবুল বাসার বলেন, আমি স্কুলের মাস্টারদের কাছ থেকে জায়গা লিজ নিয়েছি টাকার বিনিময়ে।
বালি উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধেও। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান। আমরা রাখতে দিয়েছি। কাউকে কৈফিয়ৎ দেয়ার সময় নেই। সংবাদকর্মী পরিচয় দিলে বলেন, পত্রিকায় লেখেন দেখি কি করতে পারেন?
স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র বলেন, মাটি নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটা চুক্তি হয়েছিলো। তারা স্কুলে কিছু সহযোগিতা করবে। কিন্তু সে কথা রাখেনি। এখন জোর করে মাটি রেখেছে। আমি বলেছি মাটি সরিয়ে নিতে আর গাড়ি চালানো বন্ধ করতে।
বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন জানান, ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটা মাটির  অবৈধ ট্রাক জব্দ করেছি। ভ্রাম্যমান আদালতের  মাধ্যমে আমরা জরিমানা করছি । যাতে আর না চালাতে পারে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, স্কুলের মাঠ বালি উত্তোলনের জন্য ব্যবহার করা খুবই অন্যায় কাজ। সংবাদ পেয়ে আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছি। বালি উত্তোলন বন্ধ করে দিয়ে দুইদিনের মধ্যে স্কুল মাঠ খালি করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

Lab Scan