বক্তৃতা নয় বাজারে আসুন

0

পণ্যের দাম বাড়বে না পবিত্র মাহে রমজানে। বাজার সহনশীল রাখতে প্রশাসন মিনটরিং করবে। টাস্কফোর্স নামবে বাজারে। ব্যবসায়ীদের ক্রেতা ঠকানোর সুযোগ দেয়া হবে না। ধরা পড়লেই কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা হবে। কথাগুলো সাধারণ মানুষ কিম্বা জেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নয়। কথাগুলো সরকারের শীর্ষ স্থানীয় মন্ত্রীদের বাণিজ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে কৃষি মন্ত্রী পর্যন্ত প্রতিদিন এই আশ্বাস দিচ্ছেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, কেউ কেউ আরেকটু এগিয়ে বলেছেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। মূল্য হ্রাসে সরকারি পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের লাগাম ধরা পড়েছে। অনেক নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্কসহ অতিরিক্ত ব্যয়ের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনার ফলে ব্যবসায়ীরা মূল্য হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়েছে। সরকারের এই সাফল্য পুরো রমজান মাস বহাল থাকবে। সরকারের এই পদক্ষেপ ও ঘোষণাকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই। কিন্তু বাজার ফেরৎ সাধারণ মানুষের বক্তব্য শুনে ধন্যবাদ প্রশ্নে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ছি। তারা বলছে, অতিরিক্ত মূল্যের কারণে বাজারে কিছুই কেনা যাচ্ছে না। রোজার মাত্র দু’দিন আগে ক্রেতাদের এমন বক্তব্যের পর বাজারে গিয়ে সত্যতা পেয়েছেন সংবাদকর্মীরা।
যশোর থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে টেকনাফ, তেঁতুলিয়া, সর্বত্রই মূল্য বৃদ্ধির গরম হাওয়ার খবর বলছেন তারা। যশোর-খুলনা অঞ্চলের বাজার-এর বাইরে নয়। সরকার ও ব্যবসায়ীরা সয়াবিনের মূল্য কয়েক দফায় ৭৮ টাকা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা কমানোর নজির স্থাপন করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ বাজারের ক্রেতা এ সুবিধাও পাচ্ছে না। সবচেয়ে দুর্ভাগ্য গ্রামীণ জনপদের মানুষ। তাদের কিনতে হচ্ছে ২০ টাকা শ’ অর্থাৎ ২শ’ টাকা কেজি। এই তেলের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩৬ টাকা। চালের আমদানি শুল্ক কমানো ও কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের ধমক দিলে তারা সরু চালের মূল্য কেজিতে দু’টাকা কমানোর ঘোষণা দেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের খাদ্য মোটা চালের দাম নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ফলে, তার দামও কমেনি। বর্তমানে মোটা-চিকন সব চালের দামই আকাশমুখি। ক্রেতারা বলছেন, ছোলাসহ ইফতার সামগ্রীর সবকিছুর দাম বাড়ছে। আলু, পিঁয়াজ, ঝাল, বেগুন, পটল, কাঁচকলা, বিচিকলা, লাউ, মিট কুমড়া সবই ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটা মাছের দামও বেড়েছে। মাংস ও মুরগির দাম গতকাল পর্যন্ত না বাড়লেও বাড়তে পারে যখন-তখন। কারণ, মূল্য নিয়ন্ত্রণে এখনও কারো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। সবাই ব্যস্ত হম্বি তম্বিতে।
অপরদিকে, ব্যবসায়ীরা এই হম্বি-তম্বির মানে মুখস্ত করে ফেলায় ও নিয়ে চিন্তা করছে না। তারা শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা করছেন।
আমরা সরকারের মন্ত্রীদের বলতে চাই, সম্ভবত আপনারা বাজারের সঠিক খবর পান না। যে কারণে বক্তবের সাথে আপনাদের কথা মিল খুঁজে পাই না। জনতা ক্ষুব্ধ হয় ক্রেতা। বিব্রতকর লেখালেখি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আমরা এখন পরিস্থিতি প্রত্যাশা করি না। আমরা মনে করি, আপনাদের উচিত হবে, গোপনে বাজার ঘুরে সিদ্ধান্ত নেয়া। যদি সত্যিই জনগণকে একটু ভালো খাওয়াতে চান তাহলে জনস্বার্থেই বাজার পরিদর্শনে যান। উপকার পেলে রোজার মাসে দোয়াও করবে মানুষ।

Lab Scan