ফের জাবি ভিসির বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে ফের অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের বাসভবন ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা পুলিশের সামনেই প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাদের পাশে উপাচার্যের বাসভবনের জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে পুলিশ।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ মঞ্চের সংগঠক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, ‘সভা-সমাবেশ-মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আমরা জমায়েত হয়েছি। ওই নিষেধাজ্ঞা দেখেই বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের কতটা ভয় পায়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গান, কবিতা পাঠের মতো কর্মসূচি পালন করবো।’ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনরতরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রতিবাদী কনসার্টের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল সভা-সমাবেশ, মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারির পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদী কনসার্টের ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। এখন কেউ যদি পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে, তবে তা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ হবে।’ পরিস্থিতির অবনতি হলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর। এর আগে বুধবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের পাশে মুরাদ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন তারা। পরে ভবনটির ফটক আটকে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে হল ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে হল না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি এক সভা শেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রথমে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশের কথা জানান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পর শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করলেও অনেকেই থেকে যান এবং গভীর রাত পর্যন্ত আন্দোলনে অংশ নেন। পরে বুধবার সকাল থেকে আবার আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় তিন মাস ধরে আন্দোলন চলছে। অক্টোবরের শেষ থেকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধ এবং সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছিলেন। ফলে কার্যালয়ে যেতে পারছিলেন না উপাচার্য। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আট জন শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। এই হামলার পর দুপুর ১টার দিকে পুলিশ, জাবি শাখা ছাত্রলীগ, প্রশাসনপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কড়া পাহারায় নিজ গাড়িতে করে বাসভবন থেকে বের হন উপাচার্য। পরে সেখান থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। উপাচার্য তাকে ‘মুক্ত’ করার জন্য ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ভাগ