‘ফুলের অনেক দাম’

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে নানা রকমের ফুল আর ফুলের তোড়া নিয়ে শহীদ মিনারে যান হাজারো মানুষ। আর এই ফুলের ব্যবস্থা ও তোড়া বানানোর কাজে ব্যস্ত শহীদ মিনারের আশপাশের দোকানিরা। তবে এবার ফুলের দাম বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।
আগামীকাল (সোমবার) মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটিকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে রাজধানীর ফুলের দোকানিদের। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে শহীদ মিনারের খুব কাছে বসার সুযোগ না থাকায় হাইকোর্ট মোড়ের দক্ষিণে রাস্তার পাশে বসেছেন দোকানিরা।
রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় হাইকোর্ট মোড় থেকে বঙ্গবাজারমুখী রাস্তার পাশে এমন চিত্র দেখা যায়।
ওই এলাকায় দেখা যায়, কেউ ভ্যানে করে ফুলের তোড়া নিয়ে আসছেন, কেউ ফুলের মালা তৈরি করছেন, আবার কেউ ফুলের তোড়ায় সারিবদ্ধভাবে ফুল গেঁথে দিচ্ছেন।
৪০ বছর ধরে ফুল বিক্রি করেন আবুল হোসেন। তিনি বলেন, দোয়েল চত্বর রোডে আমাদের দোকান। একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে অনেক ভিআইপি মানুষ যাবে ঐ রাস্তা দিয়ে, তাই এখানে বসেছি।
একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ফুলের ব্যবসা কেমন জানতে চাইলে আবুল হোসেন বলেন, ফুলের দাম বেশি। কাস্টমার কেমন আসে তার ওপর নির্ভর করছে বিক্রি। কাস্টমাররা আগে যে দামে ফুল নিতো সেই দামে এখন বিক্রি করা যাবে না। অনেক দাম ফুলের।
তিনি বলেন, করোনার সময় জমানো টাকা বসে বসে খেয়েছি। যারা ফুল চাষ করে তারাও চাষ করতে পারে নাই। ফুল কম, আবার করোনার পর (কমে যাওয়া) সবাই ব্যবসা করতে চাইছে, যার কারণে ফুলের দাম বেশি। ফুলও কম। সব টাকা নিচ্ছে বাগানওয়ালারা। আমরা ফুল পাই না। যেগুলো পাই তাও দাম বেশি। আবার এগুলো বিক্রি করতে গিয়েও পড়ি সমস্যায়।
আরেক ব্যবসায়ী খোরশেদ আলী বলেন, শহীদ মিনারে অনেক লোক আসে। এবারও যদি লোকজন বেশি বেশি আসে তাহলে অনেক বিক্রি হবে বলে আশা করছি। মালের (ফুলের) দাম অনেক বেশি। ৫০০ টাকার কম কোনো ফুলের তোড়া নাই। আজ বিকেল থেকেই বিক্রি শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ফুলের মালার দোকানে কাজ করেন শিমা। তিনি বলেন, প্রতিবছরই ফুলের দোকানে কাজ করি। আজ সকাল থেকেও রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করবো।
আগামীকাল মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শহীদ মিনারে আগতদের নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Lab Scan