প্লাস্টিকবিরোধী প্রবণতায় বাড়ছে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা

লোকসমাজ ডেস্ক।। পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত করার প্রয়াস চলছে। এর কারণে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাড়ছে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার। বৈশ্বিক রোলড অ্যালুমিনিয়াম তৈরির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নভেলিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় প্রধান এমিলিও ব্রাঘাই এক সাক্ষাত্কারে এমন তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
বৈশ্বিক ধাতুর বাজার নিয়ে আয়োজিত সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে রয়টার্সকে সাক্ষাত্কার দেন এমিলিও। এ সময় তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে। যার ফলে এ খাতে আগামীতে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
তার মতে, পানীয় পণ্য প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তারা এখন অধিক টেকসই উপায়ের খোঁজে রয়েছেন। আর এ কারণেই প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে এখন অ্যালুমিনিয়ামই হতে পারে টেকসই উপায়, যা ধাতুটির চাহিদা বৃদ্ধিতে সরাসরি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের এ কর্মকর্তা আরো জানান, এরই মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পানীয় পণ্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্লাস্টিক ব্যবহারের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি মাথায় রেখে এটির বিকল্প হিসেবে অ্যালুমিনিয়ামের বোতল ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টরা এখন খাদ্যসহ অন্যান্য প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব হিসেবে প্লাস্টিকের পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার বাড়াতে খাতসংশ্লিষ্টদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এছাড়া একটি পানীয় পণ্যের বোতল ৬০ দিনের মধ্যে রিসাইক্লিং করে আবার ব্যবহার উপযোগী হয়ে বাজারে আসে। এক্ষেত্রে একটি বোতল তৈরি করতে পূর্ণ জ্বালানি খরচ করতে হয়। এর বিপরীতে অ্যালুমিনিয়াম থেকে তৈরি বোতল রিসাইক্লিং করে নতুন বোতল তৈরি করতে জ্বালানি খরচ ৯৫ শতাংশ বাঁচানো যায়। পাশাপাশি প্লাস্টিক বোতলকে রিসাইক্লিং করলে সেটির মান কিছুটা কমে গেলেও অ্যালুমিনিয়াম রিসাইক্লিংয়ে মানের কোনো পরিবর্তন হয় না। ফলে প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে এটিকে আরো মূল্যবান সম্পদে পরিণত করা যায় বলে মনে করেন এমিলিও।
এছাড়া আগামীতে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদার সবচেয়ে বড় ঊর্ধ্বগতি থাকবে ট্রান্সপোর্ট খাতে ব্যবহূত ফ্ল্যাট-রোলড প্রডাক্ট ব্যবহারে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্পে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার সামনের দিনগুলোয় আরো বাড়বে বলে মনে করা হয়।
এমিলিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের তুলনায় এ সময় নাগাদ অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা বাড়বে ১০ গুণ।
বর্তমানে মার্কিন প্রতিষ্ঠান নভেলিস জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন ও রিসাইক্লিং কাজ করছে। এর মধ্যে জার্মানিতে ২০১৪ সাল থেকে স্ক্র্যাপ ব্যবহার করে অ্যালুমিনিয়াম প্ল্যান্ট চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরু থেকে এ প্ল্যান্ট থেকে বছরে ২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বা চার লাখ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে জার্মানিতে বোতল রিসাইক্লিংয়ের হার ৯৯ শতাংশ। আর সুইজারল্যান্ডে এ হার প্রায় ৯০ শতাংশ। নভেলিসের প্রধান এমিলিও অবশ্য এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরো বেশি পরিমাণ পরিত্যক্ত প্যাকিং পণ্য রিসাইক্লিংয়ের জন্য সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সেসব দেশে স্ক্র্যাপিং রিসাইক্লিং হার কম, সেসব দেশের স্ক্র্যাপিং সংগ্রহে দক্ষতা বাড়ানো ও বাছাইকরণ পদ্ধতিতে জোর দেয়া উচিত। যার মধ্য দিয়ে পর্যাপ্ত ও উন্নত মানের স্ক্র্যাপিং পাওয়া সম্ভব হবে, যা থেকে অধিক পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম বোতল তৈরি করা যাবে।
ভারতের সর্ববৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান হিন্দালকো ইন্ডাস্ট্রিজের একটি ইউনিট নভেলিস। সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেক অ্যালুমিনিয়াম পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এলিরিস করপোরেশনকে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নভেলিস ২৬০ কোটি ডলারে এর মালিকানা নিতে চুক্তিতে পৌঁছালেও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সেটিতে বাধা দেয়। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন কম্পিটিশন অথরিটি অক্টোবরে এটির অনুমোদন দিয়েছে।
এমিলিও মনে করেন, নভেলিস ও এলিরিস একত্র হলে সেটি ভোক্তা, কর্মী ও অ্যালুমিনিয়াম খাতের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে।
তিনি বলেন, এ দুটি প্রতিষ্ঠান একত্র হলে গাড়ির বাজারে ইস্পাতের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে অ্যালুমিনিয়াম। একই সঙ্গে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া রিসাইক্লিং প্রক্রিয়াকরণ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ভাগ