প্রেমিকা থেকে রক্ষা পেতে হত্যা করে গুম সেপটিক ট্যাংকে, প্রেমিক আটক

0

শার্শা (যশোর) ও বেনাপোল সংবাদদাতা॥ নয় দিন আগে নিখোঁজ এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তার সহপাঠী ও প্রেমিকের বাড়ির পিছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে। হত্যা করে মরদেহ গুম করেছিলেন প্রেমিক আহসান কবীর অংকুর (২০)। তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আলী আকবর চৌধুরীর ছেলে। নিহত জেসমিন আক্তার পিংকি (১৯) সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কাজিরহাট কাওরিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে। দুই জনই যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
গত ২ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন পিংকি। এরপর তার পিতা যশোর কোতয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। তার সূত্র ধরে তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব যশোর। এ ঘটনায় পিংকির ভাই আনিসুর রহমান বাদি হয়ে অংকুরকে অভিযুক্ত করে শার্শা থানায় একটি মামলা করেছেন। এছাড়া এ ঘটনায় অভিযুক্ত অংকুরের মা হোসনে আরা বেগম ও ভাই আহসান হাবিব রোমেলকে বাড়ি থেকে ধরে শার্শা থানায় সোপর্দ করেছে র‌্যাব। তবে তাদেরকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটক দেখানো হয়নি এবং কী কারণে থানায় আনা হয়েছে তা জানা যায়নি।
র‌্যাব জানিয়েছে, অংকুর ও পিংকির একই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুবাদে গভীর সখ্যতা তৈরি হয়। পিংকি যশোর শহরের বারান্দিপাড়ায় ২নম্ব কলোনিতে লুবনা খাতুন নামে এক মহিলার বাড়িতে ভাড়া থাকত। অংকুর সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করত। অনেকে জানতো তারা দুজন স্বামী ও স্ত্রী।
শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে অংকুরকে আটক ও মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে বিকাল সাড়ে একটি প্রেস ব্রিফিং করে র‌্যাব।
এসময় আটক অংকুর সাংবাদিকদের জানান, পিংকি তার সাথে প্রতারণা করে অন্য ছেলেদের সাথে মেলামেশা করত বলে তিনি জানতে পারেন। এ ছাড়া পিংকি তার সাথে অনেক ঝামেলা করতেন। যে কারণে তিনি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর অংকুর সিদ্ধান্ত নেন পিংকি থেকে নিজেকে বাঁচাতে তাকে হত্যা করতে হবে।
অংকুর আরও জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার যশোর থেকে পিংকিকে নাভারন দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর রাতে তাকে বাড়ির পিছনে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্য করেন। এ সময় পিংকির মাথায় ইটের আঘাতও করা হয়। তারপর পিংকির নিথর দেহ একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পিছনে সেপটিক ট্যাংকির মধ্যে ফেলে দেন। এসময় যশোর র‌্যাবের কমান্ডিং অফিসার নাজিউর রহমান জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি যশোর পলিটেকনিক কলেজের চতুথর্ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার পিংকি নামে একটি মেয়ে নিখোঁজ হয়। এ ব্যাপারে গত ৫ তারিখে যশোর সদর কোতয়ালি থানায় একটি জিডি হয়। এরপর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে । ভিকটিমের পরিবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। আমরা জানতে পারি ৫ ফেব্রুয়ারি একটি ফোন থেকে পরিবারকে বলা হয় পিংকি ভারতে পাচার হয়ে গেছে। সেই নম্বরের সুবাদে ছায়া তদন্তের মাধ্যমে আমরা আহসান কবীর অংকুর নামে একজনকে আটক করি। আটক আসামি থেকে জানতে পারি এটা তার নাম্বার নয়। এরপর অংকুরের পরীক্ষা থাকায় তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে ও মাথায় ইটের আঘাত করে সে একাই হত্যাকান্ডটি ঘটায়। এরপর লাশটি গুম করার জন্য তার বসত বাড়ির পিছনে একটি সেপটি ট্যাংকির মধ্যে রাখে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থার সহায়তা লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তে জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এরপর শার্শা থানায় একটি মামলা রুজু করে আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

Lab Scan