প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত কাটছাঁট করায় অসন্তোষ

0

কাজী সোহাগ॥ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর চাহিদা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬২ জনকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এরপর নিয়োগের ওই ফাইল যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন কাটছাঁট করা হয়। মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে অনুমোদন দেয়া হয় ২৩ জনকে। বাকি ৩৯ জনকে নিয়োগ দেয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত কাটছাঁট করায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি কমিটির পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘটনা ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করা হয়।
কমিটির ১৬তম বৈঠকের কার্য বিবরণীতে অসন্তোষের কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংসদীয় কমিটির এক সদস্য জানান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের নির্দেশে জনবল কাটছাঁট করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্‌, নাজমুল হাসান, নাসির উদ্দিন ও বেগম নাহিদ ইজাহার খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু বকর ছিদ্দিক, সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তর (ডিজিএমএস) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ, নৌবাহিনীর সহকারী নৌপ্রধান (পার্সোন্যাল) রিয়ার এডমিরাল এম মাহবুব-উল ইসলাম, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) এয়ার ভাইস মার্শাল এ এইচ এম ফজলুল হক, শেখ হাসিনা সেনানিবাস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফজলুর রহমান, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর পরিচালক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কার্যবিবরণী অনুযায়ী বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক। তিনি আইএসপিআরকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থাপিত কার্যপত্রের আলোকে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে কমিটিকে অবহিত করেন। গণমাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মতৎপরতা সম্পর্কিত সংবাদ, সংবাদচিত্র এবং আলোচনাধর্মী প্রতিবেদন প্রচারের কাজে আইএসপিআর নিয়োজিত। আইএসপিআর মূলতঃ তিন বাহিনীর জন্যই কাজ করছে। তিনি আইএসপিআর এর পরিচিতি, কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জসমূহ ও আধুনিকায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। জাতীয় পর্যায়ে আইএসপিআর এর কার্যক্রম উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো বড় ধরনের কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইএসপিআর মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে থাকে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সময় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতে আইএসপিআরও দায়িত্ব পালন করে আসছে। তিনি আইএসপিআর এর নিজস্ব কোনো অফিস ভবন না থাকা, জনবলের স্বল্পতা, অফিস সরঞ্জামাদির অভাব, সীমিত পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করেন। এ সময় কমিটির সভাপতি আইএসপিআর এর সামগ্রিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়/সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অনুরূপ কোনো প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়েছে কিনা, হলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়/সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে কী ভূমিকা রেখেছে তা জানতে চাইলে পরিচালক জানান, আইএসপিআর এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে এতদ্‌?সংক্রান্ত একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী হিসেবে ৬২ জন জনবলের অনুমোদন প্রদান করেন। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৬২ জন জনবল থেকে কমিয়ে ২৩ জন করেছে মর্মে তিনি কমিটিকে অবহিত করেন। এ সময় মুহাম্মদ ফারুক খান আইএসপিআর জনবল বৃদ্ধির ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দিক জানান, জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় আইএসপিআর এর প্রস্তাবিত ৬২ জন জনবল কমিয়ে ২৩ জন করেছে। প্রস্তাবিত জনবল ঠিক রাখার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে এবং মন্ত্রণালয় বিষয়টির উপর জোর তদারকি করবে বলে তিনি জানান। বৈঠকে উপস্থিত অসামরিক ও সামরিক সংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, আইএসপিআর-এর এতদ্‌?সংক্রান্ত প্রেজেন্টেশনটি অদ্যাবধি তার দপ্তরে পৌঁছায়নি। প্রেজেন্টেশনটি পাওয়ার পরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবেন বলে তিনি কমিটিকে জানান। পরে কমিটির সভাপতি প্রেজেন্টেশনটি অতিদ্রুত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানোর অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের পর হতে আইএসপিআর-এর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন সাংবিধানিক কাজের বাইরেও দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে ৬২ জন জনবলের অনুমোদন দিয়েছেন সেখানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জনবল হ্রাস করার বিষয়টি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ আলোচনা করে আইএসপিআর-এর অনুকূলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ৬২ জন জনবলের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র এবং মঞ্জুরির নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি থেকে সুপারিশ প্রদানের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ পর্যায়ে সভাপতি আইএসপিআর-এর ‘বেহাল অবস্থা’ মর্মে উল্লেখ করে আইএসপিআর-এর কোন কোন জায়গায় অতিদ্রুত জনবল দরকার তা নিরূপণ করার জন্য পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তিনি অতিদ্রুত আইএসপিআর এর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ এর জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য নাজমুল হাসান বলেন, পরিচালকের প্রেজেন্টেশনে উপস্থাপিত তথ্যের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে আইএসপিআর একটি অবহেলিত সংস্থা। তিনি পরিচালকের উদ্দেশ্যে বলেন, জনবল বৃদ্ধি এবং পদোন্নতিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে সেক্ষেত্রে দেশ ও প্রতিষ্ঠান কীভাবে উপকৃত হবে সে ব্যাপারেও ব্যাখ্যা থাকা উচিত ছিল।

Lab Scan