প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ নিয়েও নয়ছয়ের অভিযোগ যুবলীগ নেতা লিংকনের বিরুদ্ধে

খুলনা ব্যুরো ॥ যুবলীগ খানজাহান আলী থানা আহবায়ক সাজ্জাদুর রহমান লিংকন এতটাই বেপরোয়া যে, শুধুমাত্র বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট বা বিএনপি নেতার মালিকানাধীন জুট মিল দখল নয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাদ্দ দেয়া ৮০ লাখ টাকার বড় অংশই নয় ছয় করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ জানান, স্থানীয় মন্ত্রীর ডিও লেটার নিয়ে জেলা পরিষদ সদস্য ও যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুর রহমান লিংকন ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের জন্য ৮০ লাখ টাকার ফান্ড আনেন। এই টাকার ৪০ লাখ টাকা টেন্ডারের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ এবং ৪০ লাখ টাকা প্রকল্পর মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন বলে হিসাব সমন্বয় করেছেন।
জেলা পরিষদদের সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানান, টেন্ডারের মাধ্যমে জাদ্বীপুর মেইন সড়ক থেকে কুয়েটের সীমানা প্রাচীর পযর্ন্ত রাস্তা এবং ইউড্রেন কালভার্টসহ নির্মানের কাজে বরাদ্দ ৩৫ লাখ টাকা। তিনি জানান, এই সড়কটি সাজ্জাদুর রহমান লিংকনের বাড়ির সড়ক। তিনি আরো জানান, এই কাজের ঠিকাদার এক সাংবাদিক এবং তিনি জেলা পরিষদে এসে কাজের তদারকিও করেন। সহকারী প্রকৌশলী আরো জানান, এই কাজটি মূলত ৭/৮ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এখনও শেষ করা হয়নি। শুধু সময় বৃদ্ধি করা হচ্ছে,তবে রানিং বিলের নামে সিংহ ভাগ টাকাই ঠিকাদারকে দেয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আরো জানান, চলতি অর্থ বছরেও সাজ্জাদুর রহমান লিংকন একই ভাবে আবারও ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ এনেছেন। যদিও এই টাকার এখন ছাড় বা প্রকল্প তৈরি হয়নি। দৌলতপুরের সনি ইন্টার ন্যাশনাল এই কাজে মূল ঠিকাদার হলেও কাজটি জোর করে নিয়ে নেন যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুর রহমান লিংকন। বিষয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প হতে নিশ্চিত করা হয়েছে । নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে যুবলীগের জেলা নেতা কামরুজ্জামনের কাছেও অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। তিনি অসহায় সুরে বলেন, জোর করে কাজ নিয়ে সে কাজ আবার শেষ করছে না । ফলে তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সুনাম ুণœ হচ্ছে । তিনি আরো জানান তারা যুবলীগ নেতা লিংকনের ‘গ্যাড়াকলে’ আটকা পড়ে গেছেন।
এছাড়া ৭টা গভীর নলকূপ স্থাপন দেখানো হয়েছে । সেগুলো হলো জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য মঞ্জু সাহেবের বাড়ি, আব্দুল মালেক খানের বাড়ি, আকবার গাজীর বাড়ি, শহীদ আবু সুফিয়ান সাহেবের বাড়ি , মো: রফিকুল ইসলামের বাড়ি , রশিদ মেম্বারের বাড়ি এবং আফরোজা বেগম গুটুদিয়ার বাড়ি সংলগ্ন এলাকা। সেখানে গভীর নলকুপ স্থাপন বাবদ মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। এছাড়া ২৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে বাকি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এসব প্রকল্পের কাগজপত্র সব ঠিক রয়েছে বলে সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান দাবি করেন। তিনি জানান,এসব উন্নয়ন কাজের অনুমোদন দেন তাদের সদস্য সাজ্জাদুর রহমান লিংকন।
প্রকল্পগুলো হচ্ছে, যুব গবেষণা কেন্দ্র উন্নয়ন, কুয়েক গেট ২ লাখ, বঙ্গবন্ধু আইটি পল্লী ও প্রশিণ কেন্দ্র নির্মান ২ লাখ টাকা (বাস্তবে দুই লাখ টাকায় পল্লীতো দুরের কথা কোন প্রশিন কেন্দ্র নির্মান অসম্ভব), রেইন বো কাব উন্নয়ন , উন্নয়নের কোন প্রয়োজন না হলেও বিএডিসি সার গোডাউন জামে মসজিদ উন্নয়নে ২ লাখ। অথচ কয়েক বছর আগে এই মসজিদ টাইলস,এসিসহ সকল কাজ সম্পন্ন আছে। এছাড়া নবীন সংঘ কাব ও মুক্তিযোদ্ধা গ্রন্থাগার উন্নয়নে ২লাখ, শিরোমনী বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ও সার গোডাউন শ্রমিক ইউনিয়ন উন্নয়নে ২ লাখ, (তবে শ্রমিক সংকঠনের নেতারা বলেছেন যে, তারা কোন অনুদান পাননি) জাদ্বীপুর কিশোর একাদশ উন্ন,নে ২লাখ, শিরোমনী তরুন সংঘ কাব উন্নয়ন ২ লাখ, মীরের ডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দান উন্নয়ন ১ লাখ, মীরের ডাঙ্গা ইসলামিয়া আলীয়া মাদ্রাসা ঈদগাহ ময়দার উন্নয়ন ১লাখ, জাদ্বীপুর ঈদগাহ ময়দান উন্নয়ন ১লাখ, ফুলতলার দামোদর স্পেটিং কাব উন্নয়ন, ১ লাখ, মহেশ্বর পাশা মাধ্যমিক বিদ্য্লায় উন্নয় ১ লাখ, ফ্রেন্ডস একাদশ উন্নয়ন আটরা ১ লাখ, এ্যাজাক্স শেখ রাসেল স্পোটিং ২ লাখ, মাতৃছায়া সঞ্চয় ও ঋনদান সমবয় সমিতি উন্নয়ন ২লাখ, মোহনা সঞ্চয় ও ঋনদান সমবয় সমিতি উন্নয়ন ২লাখ, স্বপ্ন বহুমুখী সমবয় সমিতি উন্নয়ন ২লাখ, সেতুবন্ধন সমবয় সমিতি উন্নয়ন ১ লাখ , নিউজপ্রিন্ট গেইট জমে মসজিদ উন্নয়ন ১লাখ, গিলেতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন ১লাখ, ফুটবাড়ীগেট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন ১লাখ ৪০ হাজার, আল জ্বাবলে নুর হাফেজিয়া মাদ্রসা ১লাখ, মহশ্বেরপাশা একতাদিয়া মাদ্রাসা উন্নয়ন ১ লাখ ,আল –মুস্তাসির মাদ্রাসা ও হেফজখানা উন্নয়ন উত্তর বনিক পাড়া ১লাখ এবং মহশ্বেরপাশা কালী বাড়ী মন্দির উন্নয়ন এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেন জেলা পরিষদ সদস্য যুবলীগ খানজাহান আলী থানা আহবয়ক সাজ্জাদুর রহমান লিংকন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে তালিকা থাকা অনেক কাব ,সংঘ, সমিতির কোন অস্তিত্ব নাই। অভিযোগ নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা আতœস্বাত করা হয়েছে । সংশ্লিষ্টদের প হতে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানিয়েছেন।

ভাগ