পেয়াঁজ ও মরিচ চুরির অভিযোগে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, চুল কর্তন

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে পেয়াঁজ ও কাঁচা মরিচ চুরির দায়ে এক নারীকে মারপিট করে মাথার চুল কেটে দেয়া হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ গাছের সাথে বেঁধে তাকে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে সোমবার ভোর ৪টা পর্যন্ত যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের দোগাছিয়া গ্রামে। ওই নারী যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ৬ নারী ও পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সাজিয়ালি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই সেলিম আহমেদ জানান, নির্যাতনের শিকার জোহরা খাতুন কুটি বেগম (৫০) দোগাছিয়া গ্রামের ভ্যানচালক সোহরাব হোসেনের স্ত্রী। প্রতিবেশী মুনছুর আলীর পরিবার চুরির অভিযোগে তাকে ধরে রবিবার রাত ১২টার দিকে তাকে আটক করে গাছে বেঁধে মারপিট ও মাথার চুল কেটে দেয়। এ ঘটনায় মামলা হবে। এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়।  যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুটি বেগম জানান, তিনি তার নাতির জন্য পাশের আব্দুলপুর গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন কবিরাজের বাড়ি থেকে সরিষার তেল পড়ে নিয়ে আসছিলেন। প্রতিবেশী মুনছুরের বাড়ির ওপর দিয়ে আসার সময় মুনছুরের ছেলে আল আমিন, জাহিদুল ও হারুন ও তিনজন নারী তাকে ধরে গাছে বেঁধে মারপিট করতে থাকেন। এ সময় তারা বলেন, তাদের বাড়ি থেকে যে ঝাল, পেয়াঁজ ও তেল চুরি হয় তা তুমি চুরি কর। এ কথা বলে আরও মারপিট করে ও মাথার চুল কেটে দেয় তারা। গভীর রাতে তেল পড়াতে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে নিশ্চুপ থাকেন কুটি বেগম। তবে কবিরাজ তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, কুটি বেগম তার কাছে যাননি।মুনছুরের ছেলে আল আমিন বলেন, কুটি বেগম তাদের রান্না ঘর থেকে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ চুরির সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। তার কাছে ৫টি পেঁয়াজ ও ৬টি কাঁচা মরিচ পাওয়া যায়। বেশ কয়েক দিন ধরে তাদের বাড়ি থেকে ঝাল (মরিচ), পেঁয়াজ ও তেল চুরি হচ্ছে।
কুটি বেগমের স্বামী সোহরাব হোসেন জানান, আটকের পর তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারপিট করতে থাকে কয়েকজন। পরে তার মাথার চুল কেটে দেয় তারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে বেঁধে মারপিট করা হয়। পরে প্রতিবেশীদের কয়েকজন ভোর ৪টার দিকে তার বাঁধন খুলে দেন। কুটি বেগমের ভাইপো দুলাল মিয়া বলেন, মিথ্যা চুরির অভিযোগ এনে অভিযুক্তরা আমার ফুফুকে যেভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারপিট ও নির্যাতন করেছে তা অমানবিক। তিনি আরো জানান, অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহমেদ তারেক শামস বলেন, ওই নারীর শরীরে মারপিটের চিহ্ন রয়েছে, তবে গুরুতর নয়। সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সেলিম হোসেন বলেন, খবরটি শুনেই দোগাছিয়া গ্রামের ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ৬ জনকে আটক করা হয়েছে সোমবার বিকেলে। আটকরা হলেন কলিম গাজীর ছেলে হারুন গাজী (৫০), মুনছুর আলীর ছেলে আল আমিন (২৫) ও তার স্ত্রী কেয়া (২৪), জাহিদুলের স্ত্রী চায়না (৩৫) ও তার ছেলে রিয়াদ (২০) এবং আলমগীরের স্ত্রী সীমা (৩০)। চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, চুরির অপবাদে একজন মানুষকে এভাবে মারপিট ও নির্যাতন করা আইনের পরিপন্থী। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, একজন মানুষ অপরাধ করলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে পারতো।কিন্ত চুরির অভিযোগে একজন মহিলার সাথে যা করা হয়েছে তা জঘন্য।

 

Lab Scan