পেঁয়াজ ও চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ উদ্ঘাটন হোক

এই মুহূর্তে দেশের প্রধান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে পেঁয়াজ। বলা চলে পেঁয়াজের ঝাঁঝ ১৬ কোটি মানুষের চোখ বেয়ে পড়ছে পানি। বাজারে ঢুকেই দেখছে ঝাপসা। দেখাটাও খুব স্বাভাবিক, কারণ পেঁয়াজ এখন তার মূল্যমানে বিশ্ব রেকর্ডের তালিকায়। দেশের প্রধান বা শহরকেন্দ্রিক বাজারগুলোতে পেঁয়াজ যখন ২৫০ টাকা, তখন গ্রামীণ বাজারে তা ২৭০ থেকে ৩শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবিশ্বাস্য এই পরিস্থিতির মধ্যে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, বাণিজ্যমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্য। বাণিজ্যমন্ত্রী ২শ’ টাকা কেজি হবার পরও বলেছেন, পেঁয়াজের বাজারে কোন অস্থিরতা নেই। শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব না হওয়া সত্ত্বেও তিনি বলেছেন, আপাতত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। দুই মন্ত্রীর এই কথাবার্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সরগরম। কত না কথাই বলছে সবাই। দলের লোকও পক্ষে বলছে না কেউ। তবে পেঁয়াজের ব্যাপারে শুক্রবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা সব মহলেই প্রশ্ন বা কৌতূহলের জন্ম দেয়। কারণ সবাই জানে, তিনি ছাড়া এই সংকট কারো কথায় কাটবে না। যা হোক অবশেষে শনিবার তিনি বলেছেন ‘পেঁয়াজ আসছে বিমানে দ্রুত সংকট কেটে যাবে’। আমরা চলমান বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর কথায় আস্থা রাখি। কারণ প্রমাণিত হচ্ছে যে কোন বিষয়ে তিনিই শেষ কথা। তিনি যখন বলেছেন, তখন পেঁয়াজ সংকট কেটে যাবে। তবে আমাদের কেন এমন সংকট হলো এবং মূল্য রেকর্ড পর্যন্ত পৌঁছালো তা তদন্ত করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, এ সংকট ক্ষমতাধর কিছু আমদানিকারক মজুদদার ও ব্যবসায়ী এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্তাদের কারসাজি এতে থাকতে পারে। থাকতে পারে আরও উপরের লোকদের হাত। অন্তত দায়িত্ব এড়িয়ে গুরুত্বহীন কথাবার্তা তেমনি ইঙ্গিত বহন করে। আমরা চাই, এদের স্বরূপ ও এদের কারণে দেশবাসীর যে ক্ষতি হয়েছে তা উদ্ঘাটন হোক। বিচার হোক অভিযুক্তদের।
পেঁয়াজের ‘বিশ্ব রেকর্ড’ গড়া মূল্য ও ভোক্তার নাভিঃশ্বাস ওঠা নিয়ে দেশের সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যখন সরগরম, তখন হঠাৎ করেই খবরের শিরোনাম চাল। গতকাল শুক্রবার দৈনিক লোকসমাজের প্রধান সংবাদ ছিল যশোর বাজারে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৭ টাকা। শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইনের অনুসন্ধানী ওই রিপোর্টে মূল্যবৃদ্ধির ধাপ ও হার স্পষ্ট তুলে ধরা হয়েছে। যা পর্যালোচনায় প্রতিয়মান হয় এই মুহূর্তে চালের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিক কোন কারণ নেই। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক’দিন ধরে ধাপে ধাপে মূল্য বাড়লেও কেউ তদারকি করেনি। ফলে, মহাজনরা আড়ৎ ও খুচরা বাজারে এ মূল্য বাড়িয়েছে। একই দিন দেশের অন্য আরও অনেক পত্রিকায় নওগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে কেজি প্রতি ৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধির খবর হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি তার যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি। না পাওয়াই স্বাভাবিক। কারণ, সরকারি ঘোষণায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে চালের দাম ৫/৭ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৭ টাকা অর্থাৎ এক মণে ২৮০ টাকা বৃদ্ধি পাবে কেন, কীভাবে ? পেঁয়াজ না হয় আমাদের সবচেয়ে ‘প্রিয় বন্ধু’ ভারত হঠাৎ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে, তাই দাম ‘বিশ্ব রেকর্ড’ করেছে। কিন্তু চালতো গুদাম অভাবে কৃষকের কাছ থেকে তাদের বিক্রয় চাহিদা অনুযায়ী কেনাই যায়নি। অর্থাৎ কোন সংকট হয়নি। অপরদিকে, এখন চলছে আমন ধান কাটা মওসুম। অনেক এলাকায় নতুন ধান চাল বাজারে এসেছে। অর্থাৎ সংকটের কোন সুযোগ নেই। তাহলে কেজিতে ৭ বা মণে ২৮০ টাকা বৃদ্ধির যুক্তিটা কী ? আমরা জানি, হঠাৎ এই মূল্য বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে এবং দিনমজুরদের সংসারে সার্বিক অভাবটা কেমন বেড়েছে।
আমরা মনে করি, পেঁয়াজ ও চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ পৃথকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। অন্যথায় এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং আরেকটি দুর্ভিক্ষের কারণ হবে। আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেবে এটি তদন্তকালে ঘরশত্রু বিভীষনের সংখ্যা কত তা বিশেষভাবে খুঁজে দেখবে। আমরা চাই, বাজারে সব পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকুক, মানুষ পেট ভরে খেয়ে নিরাপদে শান্তিতে ঘুমাক।

ভাগ