পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে কারাগারে স্ত্রী

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী আজম মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন রাবেয়া আক্তার। সেই মামলায় আজম মাহমুদের ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রেক্ষিতে পিবিআই’র তদন্তে রাবেয়া আক্তারের দেয়া জখমি সনদপত্র ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় খালাস পেয়েছেন তিনি। একই সাথে ভুয়া জখমি সনদপত্র দাখিলের অপরাধে মামলার বাদি রাবেয়া আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক নিলুফার শিরীন এই আদেশ প্রদান করেন।
রাবেয়া আক্তার ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর পালপাড়া এলাকার একরাম আলীর মেয়ে। অপরদিকে আজম মাহমুদ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের বজলুর রশিদের ছেলে। ২০১৯ সালের ১১ জুলাই রাবেয়া আক্তার তার স্বামী আজম মাহমুদের বিরুদ্ধে যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এ যৌতুক দাবি ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন। ওই সময় আজম মাহমুদ কুষ্টিয়ার খোকসা থানায় এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।
মামলায় রাবেয়া আক্তারের অভিযোগ করেছিলেন, বিয়ের পর থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন আজম মাহমুদ। এ জন্য বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৭ জুন আজম মাহমুদ স্ত্রী রাবেয়া আক্তারকে বেধড়ক মারধর করে আহত করেন। এরপর তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। পরে স্বজনেরা রাবেয়া আক্তারকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি দুই দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর হাসপাতাল থেকে জখমি সনদ সংগ্রহ করে আদালতে মামলা করেন রাবেয়া আক্তার। বিচারক তার অভিযোগ আমলে নিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে আজম মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক নিলুফার শিরীন আসামি আজম মাহমুদকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা অর্থদ-ের রায় দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন আজম মাহমুদ। আপিলে তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলায় জাল জখমি সনদ দেওয়ার অভিযোগ আনেন। এরপর ২০২২ সালের ১৪ জুন উচ্চ আদালত আপিলের শুনানি শেষে নিম্ন আদালতকে বিষয়টি যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। একই সাথে জখমি সনদ জাল হলে আসামির সাজার আদেশ বাতিল করে বাদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেন উচ্চ আদালত। পরে উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশে যশোরের নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের আদেশ দেন। পিবিআই’র তদন্তে রাবেয়া আক্তারের দেয়া জখমি সনদ জাল বলে প্রমাণিত হয় এবং ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর সংস্থাটি আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ২৩ জানুয়ারি আজম মাহমুদকে ওই মামলা থেকে খালাস দিয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার আদেশ দেন আদালতের বিচারক। গত ২৯ জানুয়ারি স্ত্রীর রাবেয়া আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেন আজম মাহমুদ। মামলা দায়েরের পর আদালত স্ত্রী রাবেয়া আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে সোমবার রাবেয়া আক্তার আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Lab Scan