পুলিশের রণপ্রস্তুতি ও লাঠিচার্জ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলা বিএনপির জনসমাবেশে পুলিশ বাঁধা দিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের আটকাতে পারেনি। গতকাল সোমবার (৩১ জুলাই) বেলা ৪ টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শুরুর আগে জেলা বিএনপি কার্যালয়সহ গোটা আশপাশ এলাকা বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যরা এক ধরণের রণ প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান নেয়। পুলিশের এমন পরিস্থিতর মধ্যেও অত্যান্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে জেলা বিএনপির জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দলের একাধিক নেতাকর্মী জানান,যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হুসাইন, জুয়েল ইমরান, কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা নিজেদের আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও লাঠি সোঠা,হকস্টিক,ঢালসহ হেলমেট পরে অবস্থান নেয়। তাদের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছিল তারা কোন রণ প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করছে। মূলত দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতে তারা এভাবে অবস্থান নেয়। প্রথমে একটি মিছিলসহ সমাবেশেস্থলে আসা দলীয় নেতা-কর্মীদের লাল দিঘির পশ্চিমপাড়া তথা দলীয় কার্যালয়ের ডান পাশে রণ প্রস্ততি নিয়ে অবস্থান করা পুলিশ সদস্যরা আটকানোর চেষ্টা করে। তাদেরকে লাঠিচার্জ করতে দেখা যায়। তবে দলীয় নেতা-কর্মীরা পুলিশ প্রতিবন্ধকতাকে দুরে ঠেলে দিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগ দেন। এর কিছু সময় পর লাল দিঘীর দক্ষিণ পাড় থেকে মিছিল সহকারে সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে। এমনকি বিভিন্ন দোকানে বসে থাকা মানুষের ওপর তারা লাঠিচার্জ করে। এছাড়া বিএনপি কার্যালয়ের প্রবেশের রাস্তার দুই পাশে তারা অবস্থান নিয়ে মিছিল সহকারে আসা নেতা-কর্মীদের থামানোর চেষ্টা করে। এবং মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে না যেতে ও কোন প্রকার স্লোগান না দিতে নির্দেশ দেয়। এসময় মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসার পথে লালদিঘীড়র দক্ষিণ পাড় থেকে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক খুরশিদ আলম বাবুকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়।
এদিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এসে অবস্থান করা মাত্রই পুলিশ সদস্যরা তাদের কৈফিয়ত তলব করেন। অনেকের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ করেন এমন অভিযোগ দলীয় নেতা-কর্মীদের।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড.সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন,আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেছি। ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আমরা গণতান্ত্রিক,নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করছি। আমাদের কোন কর্মী উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে না। পুলিশ তাদের কাজটি করেছে। মামলা হামলা,পুলিশের ভয় সহ্য করেই আমদের কর্মীরা সকল কর্মসুচিতে অংশ গ্রহণ করছে। সুতরাং এগুলো নিয়ে তারা নতুন করে কোন প্রকার বিচলিত নয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হুসাইন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,পুলিশের পক্ষ থেকে কোন বাধা প্রদান করা হয় নি। বিএনপি যাতে করে শান্তিপূর্ণ ভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারে পুলিশের পক্ষ থেকে সেই কাজটি করা হয়েছে।

Lab Scan