পিটিআইতে চাকরি দেয়ার নামে ১০ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ আদালতে

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অফিস সহকারী পদে সৈয়দা সুরাইয়া ইয়াসমিন মুনিয়া নামে এক যুবতীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এ ঘটনায় ওই যুবতীর পিতা সৈয়দ মহাসিন আলম বুধবার ৩ জনকে আসামি করে যশোরের আদালতে মামলা করেছেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আহমেদ অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের কাজী আশিক আল মামুন সজীব, তার পিতা কাজী রেজাউল ইসলাম ও মা মাফিয়া খাতুন।  মামলার বাদি সৈয়দ মহাসিন আলম অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।  মামলার বিবরণে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে কাজী রেজাউল ইসলাম বাদি সৈয়দ মহাসিন আলমের ভাই সৈয়দ আব্দুল গফ্ফারের শ্যালক। অপর দুই আসামি মাফিয়া ও সজীব হলেন যথাক্রমে কাজী রেজাউল ইসলামের স্ত্রী ও ছেলে। এর মধ্যে সজীব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন বলে পরিচয় দেন। দুই বছর আগে তিনি সৈয়দ মহাসিন আলমের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সময় তিনি সৈয়দ মহাসিন আলমের অনার্স পড়–য়া মেয়ে মুনিয়াকে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনসটিটিউটে অফিস সহকারী পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ জন্য তিনি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। আত্মীয় হওয়ায় তাকে বিশ্বাস করে তার প্রস্তাবে রাজী হয়ে যান সৈয়দ মহাসিন আলম। ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর তিনি প্রথমে ১ লাখ টাকা দেন সজীবকে। অপর দুই আসামি রেজাউল ও মাফিয়ার উপস্থিতিতে তাকে টাকা দেয়া হয়। পরবর্তীতে সজীবের চাহিদা অনুযায়ী ৬ কিস্তিতে তার দেয়া ব্যাংক হিসাব নম্বরে আরো ৬ লাখ ১০ হাজার ৬২০ টাকা জমা দেন সৈয়দ মহাসিন আলম। এই টাকা পাওয়ার পর সজীব ৬ মাসের মধ্যে মুনিয়াকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর বাকি ৩ লাখ টাকা নিয়ে সৈয়দ মহাসিন আলমের হাতে মুনিয়ার চাকরির একটি নিয়োগপত্র তুলে দেন সজীব। একই বছরের ১ ডিসেম্বর ওই নিয়োগপত্র নিয়ে ঢাকা মিরপুরের শিক্ষা অধিদফতর সেকশন-২ এ যান সৈয়দ মহাসিন আলম। এ সময় সেখান থেকে তাকে জানিয়ে দেয়া হয় যে, নিয়োগপত্রটি ভুয়া। এরপর সজীবের কাছে মোবাইল ফোন করার চেষ্টা করলে তার নম্বরটি বন্ধ পান সৈয়দ মহাসিন আলম। পরে অপর দুই আসামি রেজাউল ও মাফিয়ার কাছে বিষয়টি জানালে তারা টাকা ফেরত দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা টাকা ফেরত দিতে তালবাহনা করতে থাকেন। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সৈয়দ মহাসিন আলম।

Lab Scan