পায়ে হাঁটাও দুষ্কর দুই কিলোমিটার সড়কে

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার ভারত সীমান্তের গা ঘেঁষা গ্রাম গয়ড়া। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের মাঠ এমন কি বাড়ির উঠান পর্যন্ত ভারতের তারকাটা সংলগ্ন সার্চ লাইটের আলোয় আলোকিত হয়। সেই গ্রামের মাত্র দুই কিলোমিটার সড়কের চরম বেহালদশার কারণে সকলকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় দুই দশক আগে সড়কটি ইটের সলিং করা হয়। এরপর আর মেরামত করা হয়নি। ফলে ইট উঠে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। এ সড়কে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য।
উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের একটি গ্রাম গয়ড়া। ভারতের উত্তর চাব্বিশ পরগনা জেলার বয়রা বাজারের পাশ দিয়ে গড়ে উঠা গ্রামে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। মাশিলা বাজার – তিলেকপুর বাজার প্রধান সড়কের মাঝখান হতে একটি ইটের সলিং করা সড়ক চলে গেছে গয়ড়া গ্রামের মাঝখান দিয়ে। প্রধান সড়কের পাশে জনৈক নুরের বাড়ি হতে শুকুর আলীর বাড়ি পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক প্রায় দুই দশক আগে ইটের সলিং করা হয়। বছরের পর বছর পার হয়েছে কিন্তু সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে সড়কের বেশির ভাগ ইট উঠে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরম কষ্ট উপেক্ষা করে প্রতিদিন কৃষক, দিনমজুর, শিক্ষার্থীসহ সব বয়সের মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কটি পাকাকরণের জন্যে গ্রামবাসী বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছ ছুটেছেন বহুবার। কিন্তু ফলাফল শুন্য বলে জানান গ্রামের সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি গয়ড়া গ্রামে গেলে সড়কের এই চিত্র দেখা যায়। এ সময় কথা হয় গ্রামের বয়োবৃদ্ধ জলিল উদ্দিন, ফজলুর রহমান, কৃষক আয়ুব হোসেনের সাথে। তারা অভিমানের সুরেই বলেন, নির্বাচন এলে প্রার্থীরা নানাভাবে প্রলোভন দেখান। ভোট শেষ তো তাদের দেখা শেষ। এভাবেই কেটে গেছে দিন, মাস এমনকি বছরের পর বছর। কোন নেতা আমাদের এই কষ্টকে বুঝতে চেষ্টা করেননি। ফলে গ্রামের মানুষের কষ্ট সেই আগের মতই রয়ে গেছে। গয়ড়া গ্রামের গৃহবধূ জায়েদা বেগম ও ছকিনা বেগম বলেন, গরিবের কষ্ট কেউ কখনও বোঝেনা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। অনেক সংগ্রাম করে চলে আমাদের সংসার। কিন্তু আমরা জনপ্রতিনিধিদের কাছে সংসার চালাতে টাকা চাইনা, চিকিৎসার জন্যে সাহায্যের হাত পাতিনা, শুধু সড়কটি মেরমতের জন্যে ধর্ণা দিই। কিন্তু কার কথা কে শোনে!
স্কুল ছাত্র কবির হোসেন, ইউছুপ আলী বলে, সলিং সড়কের এই বেহালদশা বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি। কিন্তু নতুনভাবে সড়কটি তৈরি হওয়ার কোন সম্ভবনা দেখছিনা। অনেক কষ্টে আমাদের সড়কটি পাড়ি দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, গয়ড়া গ্রাম সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় চোরাকারবারিদের আনাগোনা এখানে বরাবরই বেশি থাকে। সড়কের এই বেহালদশার কারণে সীমান্তের অতন্ত্র প্রহরী বর্ডার গার্ড সদস্যদের চলাচলেও বিঘœ ঘটছে। তাই সড়কটি দ্রুত পাকা করার দাবি জানান তারা।
৯নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন কবির জানান, সলিং সড়কটি পাকাকরণের জন্য আমি পরিষদে প্রস্তাব রেখেছি। আশা করছি পরিষদ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
স্বরুপদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কদর বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে গয়ড়া গ্রামের ওই সড়কটি পাকাকরণ করা হবে এই কথা গ্রামবাসীকে বলেছিলাম। এখন সেই ওয়াদা পুরণের সময় এসেছে। আগামী অর্থ বছরে সড়কটি পাকাকরণ হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াসাত ইমতিয়াজ বলেন, সড়কের এই বেহালদশা জানা ছিলো না। খোঁজ নিয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

 

 

 

Lab Scan