পাটকল ফের কর্মচঞ্চল, আন্দোলনে উৎপাদন ক্ষতি ১৫ শ মেট্রিক টন

খুলনা ও যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে। ৯ দফা দাবিতে টানা ১৬ দিন আন্দোলনের পর দাবি পূরণের আশ্বাসে শ্রমিকরা বুধবার থেকে মিলে উৎপাদন শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) শ্রমিকদের পদচারণায় মিল এলাকায় প্রাণ ফিরেছে। অন্যদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে গত ১৬ দিনে ৯টি পাটকলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক মো. হানিফ বলেন, কলকারখানার প্রাণ শ্রমিকরা। আর সেই শ্রমিক মিলে উপস্থিত না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল মিলগুলোতে। তাঁতের লাইন সরদার হানিফ জানান, এখনও মিলগুলোতে সব শ্রমিক যোগ দিতে পারেননি। আন্দোলনের সময় আর্থিক সঙ্কটের কারণে অনেকে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। তারা আসতে শুরু করেছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে তারা কাজে যোগ দিলেই কর্মচাঞ্চল্য আরও বাড়বে। তিনি জানান, ১৫ সপ্তাহের মজুরি না পেয়ে চরম অর্থকষ্টে থাকা শ্রমিকরা কোনও মজুরি হাতে না পেয়েও কাজে যোগ দিয়েছেন। মজুরি হাতে পেলে শ্রমিকদের কাজের গতি আরও বাড়বে।
বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, খালিশপুর, দৌলতপুর, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন ১৩ হাজার ১৭০ জন এবং বদলি শ্রমিক সংখ্যা ১৭ হাজার ৪১৩ জন। শ্রমিকদের ৯ থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাদের পাওনার পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
আন্দোলনে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন ক্ষতি : বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। পাটকলগুলোর সার্বিক বিষয় বিজেএমসিতে জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন রোয়েদাদ-২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল, সব মিলে শর্টআপের অনুকূলে শ্রমিক-কর্মচারীদের শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা ১৩ মার্চ থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। গত ৭ এপ্রিল বিজেএমসি থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া মজুরি, বেতন প্রদান ও ১৮ মে’র মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর শ্রমিকরা অবরোধ ও কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে যোগ দেন। ২৫ এপ্রিল এক সপ্তাহ সময় নেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। এরপর ২ মে মজুরি না দেওয়ায় ৫ মে থেকে মিলে উৎপাদন বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি ৬ মে থেকে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ শুরু করেন। ঢাকায় শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে সারাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে এ কর্মসূচি একযোগে শুরু হয়। এ অবস্থায় শ্রমিকরা ২২ মে থেকে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা দেন। কিন্তু ২১ মে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর শ্রমিকরা আলোচনা করে কর্মসূচি সাত দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।

ভাগ