পাঁচ ক্রয় প্রস্তাবে ব্যয় ৩৬৯৮ কোটি টাকা

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার তিনটি প্রকল্পসহ মোট ৫টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে তিন হাজার ৬৯৮ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে শুধু ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে তিনটি প্রকল্পে ব্যয় হবে দুই হাজার ৫৬৩ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা। ভারতের এক্সিম ব্যাংক এসব প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দেবে। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও এক্সিম ব্যাংক ভারত এর অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে ৪ লেন জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের পূর্ত কাজের প্যাকেজ নম্বর: ডব্লিউপি-০১ এর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ৫৭২ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ২২৪ টাকা। একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভারত ভিত্তিক মেসার্স আফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেকে প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও এক্সিম ব্যাংক ভারত এর অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে ৪ লেন জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর: ডব্লিউপি-০২ এর কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১৮৭৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮১ টাকা। উক্ত প্রকল্পের আওতায় সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে ধরখার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) পর্যন্ত (কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাতীয় মহাসড়কের অংশ) ২৭.০৫৪ কিলোমিটার নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভারত ভিত্তিক মেসার্স আফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে প্রকল্পটির ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৈঠকে জিওবি ও এক্সিম ব্যাংক ভারত এর অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে ৪ লেন জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের পরামর্শক সেবা ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, প্রকল্পটির জন্য পরামর্শক সেবা ক্রয়ের জন্য মোট ব্যয় হবে ১১৭ কোটি ৬৫ লাখ ২১ হাজার ৬০৪ টাকা। যৌথ প্রতিষ্ঠান ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড এবং মর্ডান ইঞ্জিনিয়ার্স প্ল্যানার্স অ্যান্ড কনসালট্যান্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ এর কাছ থেকে পরামর্শক সেবা নেয়া হবে।
মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৮১ কোটি ৪৫ লাখ ২৪ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ভূমি উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর, সংযোগ সড়ক এবং রিটেনশন পুকুর, রিটেনশন খাল ও পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করলে ২টি দরপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জাপানের টিওএ করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। জাইকা এ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়া পর্যন্ত জনগণের পাসপোর্ট চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যে ২ মিলিয়ন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বুকলেট এবং ২ মিলিয়ন লেমিনেশন ফয়েল সংগ্রহের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডি লা রুই ইউকে (নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে আইডি গ্লোবাল সলিউশন লিমিটেড) এর কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব পণ্য ক্রয় করা হবে। এজন্য ব্যয় হবে ৫৩ কোটি ৪ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৭ টাকা।

ভাগ