পদযাত্রায় জনতার ঢল

0

আকরামুজ্জামান ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে শনিবার যশোর শহরে পদযাত্রায় মানুষের ঢল নেমেছিল। মিছিল আর মিছিল। শহরের লালদীঘি পাড় থেকে শুরু করে পুরাতন খুলনা বাসটার্মিনাল মোড় পর্যন্ত জনতার ঢল নামে। প্রচন্ড রোদে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন হাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। খন্ড খন্ড মিছিলে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা যশোর শহর। সবার মুখে একই স্লোগান, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, ‘সরকারের পদত্যাগ চাই। শত মানুষের খন্ড মিছিল, হাজার মানুষের বড় মিছিল সবগুলো গিয়ে মিশে যায় পদযাত্রার স্রোতের সাথে।
বিএনপির পদযাত্রায় এ গণজাগরণ দেখে রাস্তার দুই পাশে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে মিছিলকে স্বাগত জানান। সে এক অন্যরকম দৃশ্য। আশির দশকে বিএনপির প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বেই এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মতোই   ভোটাধিকার আদায়ে রাজপথে জনতার এ নতুন ঢেউ নেমেছিলো। তারই যোগ্য উত্তরসূরী বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে যশোরবাসী আন্দোলনের এ নবরূপ দেখতে পান। নিকট-অতীতে কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিলে এতো বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে গত মাসের ১৯ তারিখেও যশোর বিএনপির এমন পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশের ব্যাপক নিপীড়ণের মধ্যেও সেদিন নির্যাতিত মানুষরা যশোরের রাজপথে নেমে আসেন। তবে শনিবারের উপস্থিতি ছিলো একেবারেই অবাক করার মতো। প্রখর রোদ আর প্রচন্ড গরমে ঘেমে একাকার হয়ে গেলেও ক্লান্তি ছিল না নেতাকর্মীদের। বরং ছিল দাবি আদায়ের আন্দোলন সফল করার প্রতিজ্ঞা। হাতে হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও যশোরের গণমানুষের নেতা সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড আর বজ্রকণ্ঠে স্লোগান, ‘এক দফা এক দাবি,শেখ হাসিনা কবে যাবি’, ‘চোর চোর ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘জেল-জুলুম-হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া’, ‘এই মুহূর্তে দরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা শহর। পথে পথে মিছিলকারীদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে, করতালি দিয়ে উৎসাহ যুগিয়েছেন দোকানি, রিকশাচালক, শ্রমিক, পথচারী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।
সকাল ১০ টার দিকে বিএনপির পদযাত্রার কর্মসূচি থাকলেও ৯ টার পর থেকে যশোর শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন লালদীঘি পাড়ের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে। বেলা ১১ টার মধ্যে লালদীঘি পাড় ও তার আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বেলা ১২টা বাজার কিছুক্ষণ আগে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে পদযাত্রা লালদীঘি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়। এ সময় পদযাত্রার স্রোত শহরের পুরাতন বাসটার্মিনাল মণিহার এলাকার দিকে এগুতে থাকে। তবে জনস্রোত আরএন রোডের হোটেল কনিকা পর্যন্ত পৌঁছানোর পরও জনতার স্রোত থেকে যায় রেল রোড আদ্ব-দীন হসপিটাল মোড় পর্যন্ত। মিছিলের অগ্রভাগে একটি পিকআপ ভ্যানে চড়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম দলীয় পতাকা উঁচিয়ে নেতাকর্মীদের উৎসাহ দেন।
পদযাত্রায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিত দেখে ব্যাপক খুশি যশোর জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দলটির জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, সরকারের অত্যাচার-নিপীড়ণের মধ্যেও আমাদের কর্মসূচিতে জনতার স্রোত নেমেছে। এতে নেতাকর্মীরা আগামীতে যেকোনো কঠোর পরিপরিস্থিতি মোকাবিলা করতে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, হামলা-মামলা, গ্রেফতার করে এ সরকার গদি রক্ষা করতে পারবে না। স্বৈরাচার সরকারকে বিদায় দিতে মানুষ আজ রাস্তায় নেমে এসেছে। যশোরের আজকের এ জনস্রোত দেখে প্রমাণিত চলমান আন্দোলন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গণঅভ্যূত্থানে রুপ নেবে এবং এ সরকারের পতন হবে।

 

 

 

 

Lab Scan